ঢাকা, Sunday 26 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

করোনার উল্টো চিত্র শীতে, দৈনিক আক্রান্ত কমে ৫ ভাগ

প্রকাশিত : 11:38 AM, 10 January 2021 Sunday
58 বার পঠিত

| ডোনেট বিডি নিউজ ডেস্কঃ |

সব দেশেই শীতে করোনা বিধ্বংসী আচরণ করলেও আমাদের দেশে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। গত নবেম্বরের পর ডিসেম্বর এবং জানুয়ারিতে এসে দেশে সংক্রমণের মাত্রা কম। অনেকেই সংক্রমণের হার নিয়ে তথ্য বিভ্রাটের সন্দেহ করলেও এর সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারছেন না। গবেষকরা বলছেন, চারটি কারণে দেশে করোনা সংক্রমণ কম হতে পারে। গবেষকরা বলছেন, শীতে দেশের মানুষ স্বাভাবিকভাবেই তিন ধরনের ভাইরাস সংক্রমণে সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হন। আর এ কারণেই দেশে করোনা সংক্রমণের হার কমে এসেছে। যদিও এই মতামতের সঙ্গে অনেকের ভিন্নতাও রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন ভৌগোলিক কোন কারণ, খাদ্যাভাস কিম্বা ভিটামিন ডি’র কারণে সংক্রমণ কম হতে পারে।

তবে কেউ কেউ মনে করছেন শীতে করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগে ভাগে সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এতে অনেক প্রতিষ্ঠান মাস্ক পরা হাত ধোয়া বাধ্যতামূলক করেছিল। এসব কাজের সুফল পাওয়া যাচ্ছে। তবে এখন সংক্রমণ কমে যাচ্ছে বলেই গণহারে সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করবে। এশিয়ায় শুধু বাংলাদেশ নয় ইরান এবং ভারত ছাড়া অন্যান্য দেশেও সংক্রমণ কমে এসেছে। অন্যদিকে ইউরোপ এবং আমেরিকায় সংক্রমণ বেড়েই চলেছে।

শনিবার ৯ জানুয়ারি দেশে ১২ হাজার ৯০৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৬৯২ জনের দেহে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। অর্থাৎ সংক্রমণের হার মাত্র ৫ ভাগ। এভাবে ৮ জানুয়ারি

৫ দশমিক ৭৩, ৭ জানুয়ারি ৬ দশমিক ৫৪, ৬ জানুয়ারি ৬ দশমিক ২৯, ৫ জানুয়ারি ৬ দশমিক ৮৫, ৪ জানুয়ারি ৭ দশমিক ৫২, ৩ জানুয়ারি ৬ দশমিক ৬৪, ২ জানুয়ারি ৭ দশমিক ০৫ এবং ১ জানুয়ারি ৮ দশমিক ১৭ ভাগ মানুষের মধ্যে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

করোনা সংক্রমণের এই চিত্র নিয়ে বিএসএমএমইউর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ নজরুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, শীতে আমাদের দেশে সর্দি, কাশি এবং হালকা জ¦র লেগেই থাকে। তিন ধরনের ভাইরাসের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এগুলো হচ্ছে ইনফ্লুয়েঞ্জা, রাইনো ভাইরাস এবং আরএসভির সংক্রমণ। গবেষণায় দেখা গেছে যখন একটি ভাইরাস মানুষকে আক্রান্ত করে ঠিক

তখন আরেকটি ভাইরাস কারো দেহে প্রবেশ করলেও তা বিস্তার ঘটাতে পারে না। তিনি বলেন, সকলে বলেছিলেন শীতে করোনার সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হবে। কিন্তু আমি বলেছিলাম এটি হবে না, বরং শীতে সংক্রমণ কমবে। কারণ শীতে এমনিতেই মানুষ ভাইরাসে আক্রান্ত হন।

ডাঃ নজরুল ইসলাম আরও বলেন, আমাদের ঢাকায় দুই ধরনের এলাকা নিয়ে এর আগে গবেষণা হয়েছে সেখানে দেখা গেছে নিম্নবিত্তদের তুলনায় মধ্য এবং উচ্চবিত্তদের মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণ বেশি। তিনি বলেন, যেসব মানুষ বস্তিতে থাকে তাদের ওখানে ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া অনেক বেশি থাকে। কিন্তু যারা উচ্চবিত্ত তাদের ওখানে ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া কম থাকে। সঙ্গত কারণে যে ভাইরাসের মধ্যেই জীবন

যাপন করে তার ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। কারণ তার ভাইরাস সহিষ্ণুতা বেশি। এছাড়াও যারা শরীরে রোদ লাগায়, ভিটামিন ডি’র কারণে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হয়ে থাকে। যা মানুষকে আক্রান্ত হওয়া থেকে দূরে রাখে।

অধ্যাপক ডাঃ নজরুল ইসলামের এই বক্তব্যের সঙ্গে অনেকটা একমত হয়েছেন দেশে থাকা আন্তর্জাতিক একটি প্রতিষ্ঠানের একজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, একটি ভাইরাসে মানুষ যখন আক্রান্ত হন ঠিক তখন অন্য একটি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম। তবে তার মত এখনই এই বক্তব্যের উপসংহার টানার সময় হয়নি। এজন্য আরও বিস্তারিত গবেষণা হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

দেশে গত বছর ২ জুলাই এক

দিনে সর্বোচ্চ চার হাজার ১৯ জনের মধ্যে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে। এই পরিস্থিতিতে ধারণা করা হয় শীতে সংক্রমণ আরও বাড়বে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শীতে করোনা পরিস্থিতি খারাপ হওয়াতে এই আশঙ্কা করা হয়। তবে দেশে এর উল্টো চিত্র দেখা যায়। গত ৩০ নবেম্বর দেশে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন দুই হাজার ৫২৫ জন আর ১ ডিসেম্বর আক্রান্ত হন ২ হাজার ২৯৯ জন। অর্থাৎ সংক্রমণের হার কমতে শুরু করে।

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, আমরাও করোনাভাইরাস নিয়ে বেশ কিছু কাজ করেছি। এখানে কেউ কেউ বলছেন ভৌগোলিক কারণে ভাইরাসের সংক্রমণ কম হচ্ছে। কিন্তু

ভৌগোলিক ঠিক কোন কারণে এটা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব হচ্ছে না। আবার কেউ কেউ বলছেন খাদ্যাভাসের কারণেও এটি হতে পারে। ভিটামিন ডি’র কারণে এমন হচ্ছে কি না জানতে চাইলে বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। এজন্যও কম হতে পারে। তবে ইউরোপ এবং আমেরিকাতে দুধের সঙ্গেই ভিটামিন ডি দিয়ে দেয়া হয়। ফলে সেখানের মানুষওতো ভিটামিন ডি পাচ্ছে। তিনি মনে করেন, ভারত এবং ইরান ছাড়া এশিয়ার অন্যান্য দেশে এখন সংক্রমণ কমতে শুরু করেছে। ফলে ভৌগোলিক কারণেই এমনটি হতে পারে।

শীতের আগেই করোনা সংক্রমণ নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। এতে মানুষের মধ্যে মাস্ক পরা এবং বার বার হাত ধোয়ার ওপর

গুরুত্বারোপ করা হয়। বড় বড় শহরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ঘুরে ঘুরে মানুষকে মাস্ক না পরার কারণে জরিমানা করেন। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের সচেতনতা সৃষ্টি হয়। এটিও দেশে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি না পাওয়ার একটি কারণ হতে পারে। এখন দেশের ঢাকা এবং চট্টগ্রামেই আক্রান্তদের মধ্যে ৮০ ভাগ রোগী রয়েছেন। অন্যদিকে জেলা শহরগুলোতে সংক্রমণের হার অনেক কম। এখন প্রত্যেক জেলা শহরে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। দেশে এন্টিজেন পরীক্ষার মাধ্যমে মাত্র ২০ মিনিটে সংক্রমণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। ফলে শুরুতে পরীক্ষা হচ্ছে না বলে যে প্রচার ছিল এখন সেটা নেই। কেউ চাইলেই পরীক্ষা করাতে পারছেন।

সংক্রমণ কম হওয়ার

কারণ জানতে চাইলে জাতীয় রোগ তত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডাঃ মুস্তাক হোসেন বলেন, শীতের আগেই করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাবে এমন আশঙ্কা করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি এই আদেশ দেয়াতে দেশের সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পদক্ষেপ নিয়েছিল। এখনও যা বজায় রয়েছে। কিন্তু এখন সংক্রমণ কম হচ্ছে বলে মানুষ বিয়ে শাদী বা পিকনিক শুরু করলে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করবে। ফলে যে সতর্কতা জারি রয়েছে তা আরও কঠোরভাবে পালন করার ওপর জোর দেন তিনি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT