ঢাকা, Thursday 29 July 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

করোনামুক্ত পৃথিবীতে আসবে সুদিন,জমবে মেলা

প্রকাশিত : 09:04 AM, 12 April 2021 Monday 82 বার পঠিত

বর্নমালা নিউজ ডেস্কঃ

অন্যান্য বছরের তুলনায় দৃশ্যপটে ছিল ভিন্নতা। বই নিয়ে উৎসবমুখরতার চিরচেনা রূপের দেখা মেলেনি। আজ সোমবার অমর একুশে বইমেলার শেষ দিন। সেই বাস্তবতায় আগেরদিন রবিবার মুখরিত হওয়ার কথা ছিল মেলার দুইপ্রান্তর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি। কিন্তু মহামারীর কবলেপড়া এলোমেলো বইমেলায় তেমনটা হয়নি। তাই বলে একেবারে ম্লানও হয়নি। প্রতিবন্ধকতাকে পেরিয়েই সংখ্যায় স্বল্প হলেও বইপ্রেমীদের ভিড় জমেছিল প্রাণের মেলায়। যারা এদিন মেলায় এসেছিলেন তাদের অধিকাংশই ঘরে ফিরেছেন বই নিয়ে। সেই সুবাদে গল্প উপন্যাস কবিতা কিংবা প্রবন্ধসহ বিচিত্র বিষয়ের বইগুলো ঘুরেছে হাতে হাতে। অন্যদিকে প্রকাশকসহ মেলাসংশ্লিষ্ট সকলেই বলেছেন, মহামারীর মাঝেও মেলা চলমান রাখাটাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। শেষ পর্যন্ত সেই বন্ধুর পথ পাড়ি দেয়া গেছে। এমন প্রেক্ষাপটে আগামী মেলাকে ঘিরেই স্বপ্ন দেখছেন সকলে- করোনামুক্ত পৃথিবীতে আসবে সুদিন জমবে মেলা।

এদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্যাভিলিয়ন থেকে স্টলে ঘুরে বই সংগ্রহ করছিলেন ফারহানা রহমান। আলাপচারিতায় বললেন, প্রতিবছর একাধিকবার আসা হয় বইমেলায়। কিন্তু করোনাকালে এবার সেই সুযোগ হয়নি। ইচ্ছে থাকলেও মেলার সময় কমিয়ে দেয়া, লকডাউনসহ নানা কারণে আসতে পারিনি প্রাণের মেলায়। কিন্তু দেশের সবচেয়ে বড় এই সাংস্কৃতিক উৎসবে আসতে না পারার যাতনায় ভুগছিলাম। তাই সোমবার যেহেতু মেলা শেষ হচ্ছে তাই সব ঝক্কি-ঝামেলা এড়িয়ে রবিবার চলে এলাম। পত্রিকায় প্রকাশিত নতুন বইয়ের খবর থেকে আগেই তালিকা করে রেখেছিলাম। এই তালিকা গল্প-উপন্যাস থেকে রয়েছে রাজনীতি বিষয়ক বই। সেগুলোই এখন প্যাভিলিয়ন ও স্টলে ঘুরে ঘুরে সংগ্রহ করছি। সেইসঙ্গে প্রত্যাশা করছি আগামী বইমেলার সময় যেন পৃথিবীটা করোনামুক্ত হয়। তখন প্রাণের উচ্ছ্বাসে ঘুরে বেড়াব এই মেলায়।

আজ সোমবার বইমেলার সমাপ্তি ঘটবে। অনেক আশা নিয়ে শুরু হওয়া বইমেলার শেষ হচ্ছে নিরাশার মধ্য দিয়ে। বইপ্রেমীরা আজই শেষবারের মতো যেতে পারবেন বই মেলায়, কিনবেন বই। এবারের বইমেলা নিয়ে প্রকাশকদের হতাশা থাকলেও মেলা প্রাঙ্গণে সারাদিনই ছিল তাদের পদচারণা। রবিবার দুপুরের পর থেকেই মেলাজুড়ে ছিল তরুণ-তরুণীদের পদচারণা। বিভিন্ন বই বিতানে ঢুঁ মেরে তারা তালাশ করেছেন বিচিত্র বিষয়ক বই। বই সংগ্রহ শেষে জমিয়ে আড্ডা দিয়েছেন বাঁশের বেঞ্চিতে বসে। চায়ের দোকানগুলোতেও গিয়ে কাটিয়েছেন সুন্দরতম সময়।

এবারের বইমেলা প্রসঙ্গে অবসর প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক মাসুদ রানা বলেন, স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় এবার মেলা জমেনি। বিক্রি হয়নি। কিন্তু তাতে কি বইমেলায় কিন্তু এবার প্রচুর ভাল প্রকাশ পেয়েছে। সেটাও কম নয়। তাছাড়া তরুণ লেখকদের বই বিক্রি হয়েছে প্রচুর। বইমেলার বিক্রিতে মন্দাভাব থাকলেও অনলাইনে কিন্তু বই বিক্রি বেশ জমজমাট।

তা¤্রলিপির প্রকাশক এ কে তারিকুল ইসলাম রনি বলেন, মেলায় এবার বিক্রি কম। করোনার প্রভাবে এটা হয়েছে। এতে কাউকেই দায়ী করা যাবে না। সবারই ক্ষতি হয়েছে। ব্যবসায় লাভ-ক্ষতি থাকবেই। মেলায় বই বিক্রি না হলেও সে বই নষ্ট হবে না। যে বই মেলা থেকে বিক্রি হয়নি সেটা অনলাইনে বিক্রি হবে। নয়তো পরের বছর বিক্রি হবে। এ নিয়ে হতাশ না হয়ে সামনের দিকে তাকাতে হবে।

ঐতিহ্য প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন কাজল বলেন, করোনার কারণে ফেব্রুয়ারির মেলা মার্চে শুরু হয়েছিল। এই সময়টা মেলার জন্য উপযোগী নয়। গরমের কারণে মেলায় অনেকেই আসেননি। এরপর থেকে একুশের বইমেলা ফেব্রুয়ারিতেই যেন করা হয়। অন্য কোন সময় নয়- এই দাবি জানালেন তিনি।

মহামারীর মাঝে চলমান মেলায় এবার প্রবীণ কিংবা প্রখ্যাত লেখকের চেয়ে তরুণ লেখকদের আধিপত্যই বেশি চোখে পড়েছে। গল্প-কবিতা বা উপন্যাসের ঠাস বুনটে পাঠককে কাছে টেনেছে তরুণ কবি-সাহিত্যিকদের বইগুলো। স্বকৃত নোমান, পিয়াস মজিদ, মোজাফ্্ফর হেসেন, মৌরী মরিয়ম সাদাত হোসাইন, নওশাদ জামিলসহ অনেকেই সৃষ্টিশীল রচনার মাধ্যমে কাছে টেনেছেন পাঠককে। পাঠকপ্রিয়তার কারণে এই দুঃসময়েও তাদের অনেকের বইয়ের একাধিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। অন্যদিকে প্রযুক্তির যুগে বইয়ের বিক্রি কমে যাবে- সেই আশঙ্কাটাও সত্যি হয়নি। মুঠোফান বা কম্পিউটারের স্ক্রিনে বই পাঠের সরাসরি পৃষ্ঠা বই পড়ার মাঝেই এখনও রয়েছে পাঠকের স্বস্তি। পাশাপাশি আগের তুলনায় প্রকাশনার মানও উন্নত হয়েছে। তরুণদের বই বিমুখতার কথা খুব জোরেশোরে শোনা যায়। কিন্তু বইমেলায় মূল ক্রেতাই থাকে তরুণরা। এটা ঠিক যে, তরুণদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশি সময় থাকার প্রবণতা রয়েছে। তবে উল্টো চিত্রও রয়েছে। কিছু কিছু তরুণ বেশ সিরিয়াসলি সাহিত্য পাঠ করছে, চর্চা করছে। উঠে আসছে তরুণ লেখকরা।

বর্ষীয়ান লেখকরা সারামাসেই বইমেলায় তেমন আসেননি। কিন্তু তরুণ লেখকদের পদচারণায় মুখর ছিল বইমেলা। মেলায় এসে পাঠকরা বললেন, এই মহামারীর মধ্যে মেলা চালানো বড়ো ঝুঁকির বিষয় ছিল। তারপরও কোন দুর্ঘটনা ছাড়াই মেলা পুরো সময় পেরিয়ে এলো সেটাও বড় অর্জন।

নতুন বই ॥ রবিবার ছিল অমর একুশে বইমেলার ২৫তম দিন। এদিন নতুন বই এসেছে ৪৭টি। এর মধ্যে রয়েছে গল্প-৪, উপন্যাস-৭, প্রবন্ধ-২, কবিতা-১৬, গবেষণা-১, ছড়া-২, জীবনী-২, বিজ্ঞান-১, ভ্রমণ-২, ইতিহাস-১, ধর্মীয়-৩, অনুবাদ-৩, অন্যান্য ৩টি বই। উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে অন্যপ্রকাশ এনেছে সামসাদ ফেরদৌসীর ‘এভলিন দ্বীপে একরাত’। রেডিয়ান এনেছে সাজিদ বিন সারোয়ারের ‘গোয়েন্দা বাবু’। কথাপ্রকাশ এনেছে অসিত বরণ ঘোষের ‘শিশু শিক্ষা প্রসঙ্গে যে কথা না জানলেই নয়’ ও আবুল কাশেম সম্পাদিত ‘মুক্তি সংগ্রামে আওয়ামী লীগ দালিলিক ইতিহাস ১৯৪৭-১৯৭১’। শোভা এনেছে আবুল আহসান চৌধুরীর ‘আনিসুজ্জামান : কালের সমীক্ষা’। অভ্র এনেছে ইফফাত জাহান সাফার ‘মিন্নাতের ডায়েরী’। চর্চা এনেছে যুবক অনার্য অনূদিত ‘ভাঙনে শিল্পের ক্ষত’। পঙ্খিরাজ এনেছে খন্দকার মাহমুদুল হাসানের ‘মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনো’। আলোর ঠিকানা এনেছে সাজি আফরোজের ‘প্রেমের নেশা’। প্রিয় বাংলা এনেছে শরীফ আহমেদের ‘মৎস্যপুচ্ছ পর্বতের দেশে’, ইকবাল খন্দকারের ‘একজন গুপ্তঘাতক’। পাঠক সমাবেশ এনেছে ‘আমিনুল ইসলাম ভুঁইয়া অনূদিত ‘প্লেটোর চারটি সংলাপ’। ভাষাচিত্র এনেছে জাহাঙ্গীর আলম জুয়েলের ‘বাংলায় শিখি স্প্যানিশ ভাষা’। বিভাস এনেছে ইকবাল হাসান তপুর সম্পাদিত ‘বিচারপতি ওবায়দুল হাসান : ইতিহাসের পথ বেয়ে ঐতিহ্যময়’।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বর্ণমালা টেলিভিশন'কে জানাতে ই-মেইল করুন- bornomalatv.com@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

বর্ণমালা টেলিভিশন'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। বর্ণমালা টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT