ঢাকা, Thursday 28 October 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

এক ফুলে এত রঙিন চারপাশ!

প্রকাশিত : 10:10 AM, 7 March 2021 Sunday
212 বার পঠিত

| ডোনেট বিডি নিউজ ডেস্কঃ |

বাগান বিলাস, হ্যাঁ, খুব চেনা ফুল। কমবেশি সারা বছরই ফোটে। পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় কেউ মুগ্ধ চোখে ফুলটির দিকে তাকান। কেউ হয়তো খেয়ালই করেন না। তবে এখন এই মুহূর্তের গল্পটি সম্পূর্ণ আলাদা। বাগান বিলাসের সৌন্দর্যকে উপেক্ষা করবে এমন সাধ্য কারও নেই। অনেকে তো মুখ হা করে তাকাচ্ছেন। এক ফুলে এত রঙিন চারপাশ! কী করে সম্ভব? ভেবে পাচ্ছেন না।

আসলে এখন ফুলটির ভরা মৌসুম। বসন্তে শত ফুল ফোটে। একই আহ্বানে একটু দেরি করে হলেও বাগান বিলাস নিজেকে মেলে ধরেছে। সবটুকু মেলে ধরেছে। তাতেই নতুন একটা ছবি। বাড়ির গেটে যারা বাগান বিলাস লাগান, কেন লাগান? এখন সেটি

ভালভাবে বোঝা যাচ্ছে। বাসাগুলোকে ফুলের বাগানে পরিণত করেছে বাগান বিলাস। মনে হচ্ছে রঙের ফোয়ারা। তাকালে চোখে দারুণ এক প্রশান্তি হয়। মন সে যত খারাপই থাকুক ভাল হয়ে যায়। জীবনের আর সব জটিলতা ভুলে একবার বলতে ইচ্ছে করে, ‘জীবন এত ছোট কেনে?’

ঢাকার নিউ ইস্কাটন ও পরিবাগ এলাকায় বাগান বিলাস ফুলটি বিশেষ দেখা যায়। পরিবাগের বেশ কয়েকটি আধুনিক এ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের সামনের অংশ এখন সম্পূর্ণ রঙিন। রবিবার পেট্রোল পাম্পের পাশের গলিটি দিয়ে প্রবেশের সময় প্রথম পদক্ষেপেই দেখা মিলল বাগান বিলাসের। রাস্তার মোড়ে বামপাশে একটি অফিস। অফিসের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে লাগানো গাছের ফুল বাইরে ফুটপাথের ওপরে চলে এসেছে। ঘন

রঙিন ফুলের নিচ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে মানুষ। অদ্ভুত সুন্দর একটি দৃশ্য। গলির দুইধারের বাসা বাড়ি। সুন্দর বাসা বাড়ির সামনে ফুলগুলোকে আরও সুন্দর লাগছিল।

খোঁজ-খবর করে জানা গেল, নিজের ব্যালকনিতে যে যার মতো করে গাছ লাগাননি কেউ। বরং এ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের কর্তৃপক্ষ উদ্যোগী হয়ে গাছগুলো লাগিয়েছিল। এ কারণে লম্বা রঙিন একটা ফ্রেম পাওয়া যায়। ইস্কাটন গার্ডেনের পুরনো কিছু বাড়ির বাগান বিলাসও বাইরে এসে সৌন্দর্য মেলে ধরেছে।

অন্যান্য এলাকার বাসা বাড়ির বারান্দায় বা ছাদেও ফুটে আছে বাগান বিলাস। টবের নরম মাটিতে খুঁটি গেঁড়ে মাচা তৈরি করে দেন অনেকে। এখন সে মাচা ভর্তি রঙিন ফুল।

ঢাকার রমনা পার্ক, বলধা গার্ডেন, বোটানিক্যাল গার্ডেন

বা হাতিরঝিল- যেখানেই যান না কেন স্বাগত জানাবে এই ফুল। লতানো গাছে কোন পাতা নেই। সবই ফুল। ঘন হয়ে ধরে আছে। গুনে শেষ করা যায় না।

ঢাকার সৌন্দর্য বর্ধনের চিন্তা থেকে যেসব ফুলের গাছ লাগানো হয়েছিল বাগান বিলাস সেগুলোর অন্যতম। শহরের সড়ক বিভাজক ও ফুটওভারব্রিজে বিশেষ ব্যবস্থায় ফুলের গাছ লাগানো হয়েছিল। সব বেঁচে আছে এমন নয়। কিছু অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে এখনও। ‘কিছু’র সৌন্দর্যই দেখে শেষ করা যাচ্ছে না এখন!

মজার বিষয় হলো, এ গাছটির নিয়মিত যত্নআত্তির দরকার হয় না। লতাপাতায় বাড়তে থাকে গাছ। বেড়ে ওঠে। আর যখন ফুল ফোটে তখন গোটা বাড়ির চেহারা বদলে যায়। বহিরাঙ্গন আকর্ষণীয়

হয়ে ওঠে। একই বাড়িতে হয়তো আরও ফুল আছে। থাকতে পারে বিশাল বাগান। তবে অভ্যর্থনা জানানোর কাজটি করে বাগান বিলাস।

বাগান বিলাসের ইংরেজী নাম বোগেনভেলিয়া। এটি ঘুপঃধমরহধ পবধব পরিবারভুক্ত। দেখতে কাগজের মতো মচমচে হওয়ায় বাগান বিলাসকে কাগজি ফুলসহ বিভিন্ন নামেও ডাকা হয়। ফুলগুলো হলুদ, সাদা, গোলাপি, কমলাসহ নানা রঙের হয়ে থাকে। বেশি চোখে পড়ে লাল রং। বাড়ির গেট বা ছাদের বিশাল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা লতাগুলো শক্ত ধরনের। কিছু একটা আঁকড়ে ধরে এটি বাড়তে থাকে।

প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দেয়া প্রথম ফরাসী নাবিক লুইস এ্যানিত্দয়োন বোগেনভিলের নামে এই ফুলের নামকরণ করা হয়। ১৮ শতকে তিনি ব্রাজিলে ফুলটির সন্ধান পান। আদিনিবাস

দক্ষিণ আমেরিকা হলেও এখন সারা পৃথিবীতেই দেখা যায় বাগান বিলাস। এর অজস্র প্রজাতি। এখন পর্যন্ত ফুলটির প্রায় ৩শ’ জাত আবিষ্কার হয়েছে। ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স, থাইল্যান্ড, আমেরিকা, পাকিস্তান, ইন্ডিয়া, শ্রীলঙ্কা, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, গ্রীস, স্পেন, সিঙ্গাপুর, মেক্সিকো, সুইজারল্যান্ডের আবহাওয়া বাগান বিলাসের জন্য বিশেষ উপযোগী বলে জানা যায়। বলাবাহুল্য, বাংলাদেশের পরিবেশও ফুলটির জন্য খুব অনুকূল। এখানে দীর্ঘকাল ধরে আছে বাগান বিলাস। প্রচুর পরিমাণে হয়। খুব যত্নআত্তি ছাড়াও টিকে থাকে।

উদ্ভিদবিদ দ্বিজেন শর্মার বর্ণনা অনুযায়ী, বাংলাদেশে বাগান বিলাসের কোন ফল হয় না। এ কারণে কোন বীজের পরিবর্তে কলমের মাধ্যমে ডাল কেটে নিয়ে নতুন চারা তৈরি করা হয়। মেরিপামার

ও স্পেক্টাবিলিস জাত দুটি এ দেশে বেশি দেখা যায়। কোনটিতে তিনটি পাপড়ি থাকে। কোনটিতে পাপড়ির সংখ্যা হয় তিনের অধিক। সবমিলিয়ে সৌন্দর্যটাকে ফুটিয়ে তোলে। উপভোগ করুন সে সৌন্দর্য।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT