ঢাকা, Monday 20 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

ঈদের নামাজ ঘরে বা একাকী আদায় করা যাবে?

প্রকাশিত : 05:52 PM, 15 October 2020 Thursday
101 বার পঠিত

| ডোনেট বিডি নিউজ ডেস্কঃ |

করোনার এই সংকটময় সময়ে এসে গেল পবিত্র ঈদুল ফিতরের ক্ষণ। ঈদের নামাজ দিয়েই শুরু হয় ঈদের উদযাপন। ঈদের নামাজ ছাড়া ঈদ যেন কল্পনাই করা যায় না।

দেড় হাজার বছরে কখনও ঈদের নামাজ পরিত্যক্ত হবার ইতিহাস পাওয়া যায় না। ঈদের নামাজ ইসলামের অন্যতম এক শেয়ার। শেয়ার বলা হয় ধর্মের পরিচায়ক, প্রতীক ও অবিচ্ছেদ্য অঙ্গকে।

এমন এক সময় এই ঈদ এলো যখন সারা বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ মৃত্যু মুখে নিপতিত হচ্ছে, আরও অসংখ্য মানুষ রোগাক্রান্ত হয়ে কঠিন সময় পার করছে। যত দুর্যোগই আসুক আমাদের জীবনে ইবাদত বন্দেগী আমাদের করেই যেতে হবে। শরিয়ত যেভাবে নির্দেশ করে সেভাবেই আমাদের প্রতিটি হুকুম

পালন করতে হবে।

আমাদের দেশে বেশ কিছু দিন মসজিদ বন্ধ ছিল। এখন উন্মুক্ত করে দেয়া হলেও অনেকেই সতর্কতামূলক ঘরেই নামাজ পড়ছিলেন। এখন ঈদের সময় তারা কী করবেন?

বিশেষত যারা কোয়ারেন্টিন বা আইসোলেশনে আছেন এবং যারা করোনার ভয়ে ভীড় থেকে দূরে থাকতে চান তারা কিভাবে ঈদের নামাজ আদায় করবেন?

খুব সংক্ষেপে আমরা এ বিষয়ে শরিয়াতের নির্দেশনা তুলে ধরব। মূলত ঈদের নামাজ জুমার নামাজের মতই। জুমার জন্য যেসব শর্ত ঈদের জন্যও সেই একই শর্ত। জুমা সাপ্তাহিক ঈদ আর ঈদ হচ্ছে বাৎসরিক আয়োজন।

সাপ্তাহিক ঈদের মত হলেও বাৎসরিক আয়োজনে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে। জুমার নামাজ ফরজ আর ঈদের নামাজ ওয়াজিব। ( অন্য মাজহাবে

সুন্নাত)

জুমার নামাজের পূর্বে দুটি খুতবা দিতে হয়। জুমার খুতবা ওয়াজিব। ঈদের নামাজের খুতবা ওয়াজিব নয়, সুন্নত। ঈদের খুতবা দিতে হয় নামাজের পর।

জুমার সঙ্গে ইদের নামাজের আরেকটি পার্থক্য হচ্ছে, ঈদের নামাজে অতিরিক্ত ছয়টি তাকবির দিতে হয়। প্রথম রাকাতের শুরুতে আর পরের রাকাতে রুকুর আগে তিন তিনটি তাকবির দেয়ার নিয়ম। রাসূল সা. ইদের দিন সম্পর্কে বলেন, হাযা ইদুনা ইয়া আহলাল ইসলাম। হে মুসলিম উম্মাহ! এটা আমাদের ইদ। (বুখারী ১/১৩৪)

ঈদের শর্তগুলো কিছুটা সহজ রাখার কারণ ঈদের গুরুত্বহীনতা নয় বরং কড়াকড়ি করে ঈদের আনন্দ যেন মাটি না হয় সে উদ্দেশ্যেই আল্লাহ তায়ালা ঈদকে সহজ করেছেন। ঈদের নামাজ ফরজ করলে

স্বত:স্ফূর্ত জামাত আদায়ের আনন্দ থাকত না।

আল্লাহতায়ালা এ জন্যই ফেরেশতাদের সামনে মুমিনদের নিয়ে গর্ব করেন। ঈদের জামাতে যারা অংশগ্রহণ করে তাদের সব গুনাহ মাফ করে দেন।

রাসূল সা. ইরশাদ করেন, ‘আসমানে ঈদের দিনকে পুরস্কার দিবস নামকরণ করা হয়। ঈদের নামাজ শেষে ফেরেশতারা ঘোষণা করতে থাকে, তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের পাপসমূহ মাফ করে দিয়েছেন, তোমরা পূত পবিত্র হয়ে গৃহে ফিরে যাও। (তাবারানি কাবির, সাদ ইবন আউস রা. থেকে বর্ণিত, তারগিব ২/১৫৯)

যারা মসজিদে যেতে পারছেন না বা সতর্কতামূলক যেতে চান না তাদের ঈদের নামাজ জামাতেই পড়তে হবে। জামাত ছাড়া একাকী পড়ার বিধান শাফেয়ী মাজহাবে আছে। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ হানাফি

মাজহাব অনুসরণ করেন।

হানাফি মাজহাবের স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, জামাত ছাড়া একাকী ঈদের সালাত আদায় করা যায় না। (ইবন রুশদ, ১/১৫৯, মুহিতে বুরহানি ২/২২৯)

রাসূল সা. বা সাহাবায়ে কেরাম কখনও একাকী ঈদ আদায় করেননি। কোনো একটি বর্ণনায়ও একাকী ঈদের নামাজ আদায়ের কথা পাওয়া যায় না।

মসজিদ ছাড়া ঘরে ঈদের জামাত করা যাবে? হ্যাঁ অবশ্যই করা যাবে যদি শর্ত পাওয়া যায়। শর্ত হচ্ছে ইমাম ছাড়া কমপক্ষে তিন জন বয়স্ক পুরুষ থাকতে হবে। বড় ঘরের বৈঠক খানায় অথবা বাড়ির ছাদে বা উঠানে অথবা যে কোনো খোলা জায়গায় ইদের নামাজ আদায় করা যাবে।

হযরত আনাস রা. একবার ঈদের নামাজ পড়তে পারেননি, তো তিনি

বাড়ির সবাইকে একত্র করে তার গোলামকে ঈদের নামাজের ইমামতি করতে বললেন। (বুখারী শরীফ ১/১৩৪)

এসব শর্ত সবার জন্য পালন করা সহজ হবে না। সবার তো আর বড় বাড়ি নেই। বাড়ির সামনে খোলা জায়গাও নেই। সে ক্ষেত্রে ঈদের নামাজ নয়, বরং চার রাকাত চাশতের নামাজ আদায় করার কথা বলেছেন হযরত ইবন মাসউদ রা.। [ইবন আবি শাইবা ৪/২৩৫]

আতা ইবন রাবাহ বলেছেন, কোনো কারণে ঈদের নামাজ পড়তে না পারলে দু’রাকাত চাশতের নামাজ আদায় করবে। [বুখারী ১/ ১৩৪]

হানাফি মাজহাবে এ জন্য দু রাকাত ও চার রাকাত উভয়টির অনুমোদন রয়েছে। তবে চার রাকাত পড়া উত্তম লেখা হয়েছে ফতোয়ার কিতাবাদিতে। [মুহিত ২/২২৯,

শামী, আলমগিরি, বাদায়ে, বাহর, মাজমাউল আনহুর, মুখতাসারুত তাহাভি]

ঈদের নামাজের বদলে চাশতের নামাজ পড়লেও আল্লাহ ইদের সওয়াব দিয়ে দিবেন ইনশাল্লাহ। যাদের ঈদের জামাতে শরিক হবার তৌফিক হয় তারা সবাই ঈদে শরিক হবেন। যাদের মসজিদে বা ঘরে জামাত করতে সমস্যা হয় তারা অবশ্যই মহল্লার মসজিদে ঈদের জামাত শেষ হবার পর ঘরে দুই রাকাত বা চার রাকাত চাশতের নামাজ আদায় করে নিবেন।

অতিরিক্ত ছয় তাকবির দেয়া লাগবে না। নিয়ত করতে হবে নফল নামাজের। যে কোনো সুরা দিয়ে নামাজ আদায় করা যাবে। সাধারণ নফল নামাজের মতই এ নামাজ পড়তে হবে।

আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা আমাদের সবাইকে সুন্দরভাবে ঈদুল ফিতর উদযাপন করার তাওফিক

দিন। দ্রুতই আমাদের দেশকে করোনামুক্ত করেন এবং সবধরনের দুর্যোগ থেকে রক্ষা করেন। আমীন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT