ঢাকা, Wednesday 22 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

‘ইসলামাবাদের চাকরি আমরা ত্যাগ করলাম বিবেকের নির্দেশে’

প্রকাশিত : 09:17 AM, 28 December 2020 Monday
52 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

নিজের দেশ হলেও নিরীহ বাঙালীদের উপর বর্বরোচিত হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন দেশটির অনেক কূটনীতিক। পাকিস্তানের অন্যায় গোটাবিশ্ব বিবেককে প্রচণ্ডভাবে নাড়া দিয়েছিল। মানবিক জায়গা থেকেই অনেক সময় তাই নিজ দেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন কূটনৈতিক দায়িত্বে নিয়োজিত কেউ কেউ। অবসরে যাওয়া কূটনীতিকরাও পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছেন তা বলা যাবে না। পূর্ব বাংলারও অনেক কূটনীতিক বিভিন্ন দূতাবাসের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন।

ইসলামাবাদের শাসকদের বর্বরতার নজির ইতিহাসে নেই ॥ ১৯৭১ সালের আট এপ্রিল সংখ্যায় ভারতের ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকায় প্রাক্তন পাক কূটনীতিকদের এক বিবৃতি ছাপা হয়। শিরোনাম ছিল, ‘আমরা বাংলাদেশের অনুগত : প্রাক্তন পাক কূটনীতিকদের বিবৃতি।’ নয়াদিল্লী থেকে

খবরটি পাঠানো হয় সাত এপ্রিল। এতে বলা হয়, ‘শ্রী কে এম সাহাবুদ্দিন ও শ্রী আমজাদুল হক এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন, বাংলাদেশের জনসাধারণ ইসলামাবাদ সরকারকে বিদেশী ঔপনিবেশিক শাসকচক্র হিসেবেই গণ্য করেন। পূর্ববঙ্গের অধিবাসী এই দুই পাকিস্তানী কূটনীতিক গতকাল ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করেন’।

যুক্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদের শাসকদের বর্বরতার নজির ইতিহাসে নেই। নিরস্ত্র জনসাধারণের উপর ব্যাপক হত্যালীলা কতদূর চালানো হয়েছে- বিশ্বের জনমত তা উপলব্ধি করতে শুরু করেছে।

তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ-দলিলপত্র : চতুর্দশ খণ্ড’র ৬৬৫ পাতায় উল্লেখিত লেখায় আরও বলা হয়, ‘ওঁরা বলেন ইসলামাবাদের ফ্যাসিবাদী সামরিক একনায়কত্বের সঙ্গে আমরা সম্পর্ক ছেদ করেছি। আমাদের বিবেকের

নির্দেশে ইসলামাবাদের চাকরি আমরা ত্যাগ করলাম। বাংলাদেশের পশ্চিম পাকিস্তানী সৈন্যরা দখলদার বাহিনী ছাড়া কিছুই নয়। এখন থেকে আমরা বাংলাদেশের কাছেই আমাদের আনুগত্য জানাচ্ছি। সাড়ে সাত কোটি বাঙালীর সুস্পষ্ট নির্দেশেই বাংলাদেশ সার্বভৌম ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। আমরা পৃথিবীর সব সভ্য মানুষের কাছে সহানুভূতি ও সুনির্দিষ্ট সাহায্যের জন্য আবেদন জানাচ্ছি। পৃথিবীর সব দেশকে আমরা আবেদন করছি-সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারকে স্বীকৃতি দিন।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘স্বাধীন বাংলা বেতারে গত সপ্তাহে বাঙালী কূটনীতিকদের উদ্দেশে এক ঘোষণায় বলা হয়েছিল, বদলির আদেশ পেলে তারা যেন যে যে দেশে আছেন- সেই দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন। ওই দুই কূটনীতিক গত সপ্তাহে বদলীয় আদেশ পান।

আনন্দবাজারে

প্রকাশিত কূটনীতিকদের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমাদের অনুরোধেই ভারত সরকার আমাদের নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের সার্বভৌম সরকারের নেতৃবৃন্দের নির্দেশিত পথ অনুযায়ী আমাদের দেশের কাজে আত্মনিয়োগ করতে আমরা শিগগিরই ফিরে আসছি! জয় বাংলা।’

দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হলো আর্চার ব্লাডকে ॥ বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) থেকে প্রকাশিত নিরীক্ষার ২২১তম সংখ্যায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডাঃ সারওয়ার আলী লিখেছেন, ‘… ১৯৭১ সালের ৬ এপ্রিল ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের কনসাল জেনারেল আর্চারকে ব্লাডসহ ২০ জন ঢাকা ও ওয়াশিংটনের স্টেট ডিপার্টমেন্টের কূটনীতিবিদরা ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিক ভিন্নমত জানিয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টে চিঠি পাঠান। তারা পাকিস্তান সরকারের সত্তরের নির্বাচনের রায় অস্বীকার করা এবং গণহত্যার ক্ষেত্রে

মার্কিন প্রশাসনের নির্লিপ্ত অবস্থানের প্রতিবাদ জানান। সেজন্য আর্চার ব্লাডকে কনসাল জেনারেলের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয় এবং তার কূটনৈতিক-জীবনের প্রায় অবসান ঘটে।’

পাকিস্তানের সামরিক সরকারকে কাঁপিয়ে দিলেন তারা ॥ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সচিব মহিউদ্দিন আহমদ তার এক লেখায় বলেছেন, ‘…এই তরুণ দুই বাঙালী কূটনীতিবিদ এমন একটি ঘটনা ঘটালেন, যেমনটি দুনিয়ার আর কোন দেশে আগে ঘটেনি। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বাঙালীদের ওপর যে গণহত্যা শুরু করল, তার তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিক্রিয়ায় এবং সেই রাতে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণায় অনুপ্রাণিত, উজ্জীবিত হয়ে তারা টাইমস অব ইন্ডিয়ার বাঙালী সাংবাদিক দিলীপ মুখার্জির গ্রেটার কৈলাসের বাসায় ৬ এপ্রিল

মধ্যরাতে এক সংবাদ সম্মেলন করে পাকিস্তানের সামরিক সরকারকে কাঁপিয়ে দিলেন। তাদের অনুসরণ করলেন আরও কত দেশের পাকিস্তানী দূতাবাসে কর্মরত কিছু বাঙালী কূটনীতিবিদ।

দখল হলো পাকিস্তানের দূতাবাস ॥ মহিউদ্দিন আহমদ তার লেখায় বলেন, লক্ষ করার বিষয়, কে এম শিহাবউদ্দিন ও আমজাদুল হকেরা যখন মুক্তিযুদ্ধের এই কূটনৈতিক ফ্রন্টটি খুললেন, তখনও মুজিবনগর সরকার গঠন হয়নি। মুজিবনগর সরকার গঠন হয় ’৭১-এর ১০ এপ্রিল এবং এই সরকারের মন্ত্রীরা শপথ নেন ১৭ এপ্রিল, বৈদ্যনাথতলায়, এখন যার নাম মুজিবনগর। এই কূটনৈতিক ফ্রন্টে প্রবল এক ভূমিকম্পের শক্তিতে যোগ দিলেন কলকাতায় পাকিস্তান ডেপুটি হাইকমিশনে কর্মরত সব বাঙালী কর্মকর্তা ও কর্মচারী। মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণের

পরদিন, ১৮ এপ্রিল, বাঙালী ডেপুটি হাইকমিশনার, পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসের ৪৯ ব্যাচের এক সদস্য, হোসেন আলীর নেতৃত্বে তারা যোগ দেন। ১০৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে বাঙালীর সংখ্যা ছিল ৬৫। তারা আগের দিন ব্যাংক থেকে সব টাকাই তুলে নিলেন আর দখল করে নিলেন ডেপুটি হাইকমিশন ভবনটিও। একাত্তরে আমরা পাকিস্তান দূতাবাসগুলোর ওই একটিই দখল করতে পেরেছিলাম। এই উপদূতাবাসের অবাঙালী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবাঞ্ছিতও ঘোষণা করা হলো তখন।

এর পরের ফ্রন্টটি ছিল নিউইয়র্কে। সেখানকার পাকিস্তান কনস্যুলেট জেনারেলের ভাইস কনসাল ছিলেন আবুল হাসান মাহমুদ আলী, ১৯৬৬ ব্যাচের পাকিস্তান ফরেন সার্ভিস কর্মকর্তা। তিনি পদত্যাগ করলেন ২৬ এপ্রিল। সাবেক অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিত তখন ওয়াশিংটনের পাকিস্তান

এ্যাম্বাসিতে ইকোনমিক কাউন্সিলর, তিনি পদত্যাগ করলেন ৩০ জুন। ওয়াশিংটনে তখন ডেপুটি চীফ অব মিশন এনায়েত করিম ও পলিটিক্যাল কাউন্সিলর এস এ এম এস কিবরিয়া পদত্যাগ করলেন ৪ আগস্ট। এই দিন পদত্যাগ করলেন নিউইয়র্কে জাতিসংঘে পাকিস্তান স্থায়ী মিশনের উপস্থায়ী প্রতিনিধি এস এ করিমও। কাঠমান্ডু থেকে পদত্যাগ করলেন সেকেন্ড সেক্রেটারি মুস্তাফিজুর রহমান।

একাত্তরে যে তিন বাঙালী রাষ্ট্রদূত পাকিস্তানের ‘মার্ডারার’ সরকারের চাকরি ছেড়ে দিয়ে কূটনৈতিক ফ্রন্টে যোগ দিয়েছিলেন, তারা হলেন ইরাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আবুল ফতেহ, ২১ আগস্ট; ফিলিপিন্সে কে কে পন্নী, ১৪ সেপ্টেম্বর; আর্জেন্টিনায় আবদুল মোমেন, ১১ অক্টোবর। এমন আরও পদত্যাগ ঘটেছে প্যারিস, হংকং, স্টকহোম, লাগোস, ব্রাসেলস, আফ্রিকা, বৈরুত,

টোকিও, কায়রোতেও। ফলে এসব জায়গায় পাকিস্তানের অপপ্রচার প্রচণ্ডভাবে ধাক্কা খায়।

সাংবাদিক ও গবেষক জাফর ওয়াজেদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের বর্বরতার প্রতি ঘৃণা জানিয়ে তখনকার সে দেশটির কূটনীতিকদের অনেকেই দায়িত্ব থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। তারা হয়ত মানবতাবিরোধী সরকারের সঙ্গে থেকে নিজেকে অভিশপ্ত করতে চাননি। তাই প্রথম ভারতে নিয়োজিত পাকিস্তানের কূটনীতিকরা সরে দাঁড়ান।

জড়ো হলো পাঁচ হাজার বাঙালী ॥ মহিউদ্দিন আহমদ তাঁর লেখায় বলেন, দেশ থেকে ২৫ মার্চের পর থেকেই গণহত্যা, খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, অত্যাচার-নির্যাতনের খবর পাচ্ছিলাম। মার্চ-এপ্রিলে লন্ডনের আকাশ প্রায়শই মেঘলা, মাঝে মধ্যে ঝিরিঝিরি বৃষ্টিও। প্রতিকূল আবহাওয়া। তার ওপর স্ত্রী সন্তানসম্ভবা। আমি পাকিস্তান হাইকমিশনে যাই, কিন্তু কোন কাজ

নেই। ঘরে-বাইরে, দেশে সাংঘাতিক সব খবর। ওখানকার পত্রপত্রিকায়, টিভিতে, রেডিওতে আরও বেশি বেশি খবর। এর মধ্যে খবর পাই মুক্তিযুদ্ধের কূটনৈতিক ফ্রন্টের। সিদ্ধান্ত নিলাম, আমাকেও তো কিছু করতে হয়।

সেখানে প্রায় চার-পাঁচ হাজার বাঙালী এসে জড়ো হয়েছে। প্রথমে ১৩০ ব্রিটিশ এমপির স্বাক্ষরিত একটি আবেদন পাঠ করে শোনানো হলো, তারা পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগার থেকে শেখ মুজিবের মুক্তি দাবি করেছেন। তারপর বিভিন্ন বক্তা শোনাতে লাগলেন বাংলার গ্রামগঞ্জে পাকিস্তানী সেনাদের অমানুষিক অত্যাচারের কাহিনী। একজন প্রস্তাব তুললেন, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসকে পৃথিবীর সব দেশের বয়কট করা উচিত। কারণ, তাদের যাত্রীবাহী বিমান বেআইনীভাবে অস্ত্রশস্ত্র ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বহন করে নিয়ে যাচ্ছে ঢাকায়।

একজনের বক্তৃতার মাঝখানেই হঠাৎ একটা উল্লাসের কোলাহল শোনা গেল। এইমাত্র লন্ডনের পাকিস্তান হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব মহিউদ্দিন আহমদ পদত্যাগ করে বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য জানাতে এসেছেন। হাজার হাজার মানুষ চিৎকার করে উঠল, জয় বাংলা! জয় বাংলা!’

ওয়াশিংটনের কূটনীতিকদের পদত্যাগ ॥ সাবেক পররাষ্ট্র সচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী ‘আমাদের কূটনৈতিক মুক্তিযোদ্ধা’ শিরোনামে লেখায় বলেছেন, ‘…ভারতের বাইরে সবচেয়ে বড় দলবেঁধে ‘ডিফেকশন’ হয় ওয়াশিংটন ডিসিতে। সেখানে একযোগে ১৪ জন কূটনীতিক ও স্টাফ একসঙ্গে বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করলেন ৪ আগস্ট, ১৯৭১। দলের নেতৃত্ব দেন সৈয়দ আনোয়ারুল করীম, জাতিসংঘে পাকিস্তানের উপ-প্রধান প্রতিনিধি ও মিনিস্টার।

দলে ছিলেন এনায়েত করীম, মিনিস্টার, ওয়াশিংটনের পাকিস্তানের উপ-মিশন প্রধান। কাউন্সিলর

শাহ এমএস কিবরিয়া, অর্থনৈতিক কাউন্সিলর আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিক্ষাবিষয়ক কাউন্সিলর সৈয়দ আবুল রশীদ মতীন উদ্দিন, দ্বিতীয় সচিব (হিসাব বিভাগ) আতাউর রহমান চৌধুরী ও তৃতীয় সচিব (রাজনৈতিক) সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী। তিন স্থানীয়ভিত্তিক কর্মকর্তা শরফুল আলম, শেখ রুস্তম আলী ও আবদুর রাজ্জাক খান। এ দলে যোগ দেন’।

বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) থেকে প্রকাশিত নিরীক্ষার ২২১তম সংখ্যায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডাঃ সারওয়ার আলী লেখার একটি অংশে রয়েছে, ‘১৯৭১ সালের ৬ এপ্রিল ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের কনসাল জেনারেল আর্চার কে ব্লাডসহ ২০ জন ঢাকা ও ওয়াশিংটনের স্টেট ডিপার্টমেন্টের কূটনীতিবিদরা ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিক ভিন্নমত জানিয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টে চিঠি পাঠান। তারা পাকিস্তান সরকারের

সত্তরের নির্বাচনের রায় অস্বীকার করা এবং গণহত্যার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসনের নির্লিপ্ত অবস্থানের প্রতিবাদ জানান। সেজন্য আর্চার ব্লাডকে কনসাল জেনারেলের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয় এবং তার কূটনৈতিক-জীবনের প্রায় অবসান ঘটে।”

কলকাতা ও ঢাকার ডেপুটি হাইকমিশন অফিস বন্ধ হচ্ছে ॥ ১৯৭১ সালের ২৫ এপ্রিল ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি খবরের শিরোনাম ছিল, ‘কলকাতা ও ঢাকার ডেপুটি হাইকমিশন অফিস বন্ধ হচ্ছে’। ২৪ এপ্রিল নয়াদিল্লি থেকে পাঠানো খবরে বলা হয়, ‘পাকিস্তান এবং ভারত আগামী সোমবারের মধ্যে ভারতের ডেপুটি হাইকমিশন অফিস বন্ধ করে দিচ্ছেন। গতকাল ইসলামাবাদে ভারতের অস্থায়ী হাইকমিশনারের কাছে এবং আজ পাকিস্তানী হাইকমিশনার কর্তৃক পররাষ্ট্র দফতরের সচিব শ্রী এস

কে ব্যানার্জীর কাছে প্রদত্ত নোটে পাকিস্তান কলকাতায় ডেপুটি হাইকমিশন অফিস বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। এই নোটে ভারতকেও ঢাকায় তার ডেপুটি হাইকমিশন অফিস বন্ধ করতে বলা হয়। ভারত তাতে রাজি, তবে পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তে দুঃখিত। পাকিস্তানী নোট অনুসারে সোমবারের মধ্যেই এই দুই অফিস বন্ধ হয়ে যাবে এবং উভয় অফিসের কর্মী এবং তাদের পরিবারবর্গ স্থান ত্যাগ করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের উচিত পাকিস্তানের সামরিক জান্তাকে সকল ধরনের সাহায্য বন্ধ করা ॥ দি মনিটর পত্রিকায় সম্পাদকের কাছে লেখা চিঠিপত্রে-ঢাকাস্থ পাকিস্তান-সিয়াটো কলেরা গবেষণা ল্যবরেটরির সাবেক কর্মকর্তা বোস্টনের ডঃ জন রোড অভিযোগ করেন, ঢাকায় নিযুক্ত তার মতো বেসামরিক এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের উচ্চপদস্থ

কর্মকর্তাদের আগাম হুঁশিয়ারি অগ্রাহ্য করা হয়। এসব কর্মকর্তা আগে ভাগেই পূর্ব পাকিস্তানের ব্যাপক জীবনহানীর ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন। রোড বলেন, চারমাস পেরিয়ে যাওয়ার পর এখনও পর্যন্ত ইয়াহিয়া সরকার মার্কিন অর্থনীতিক ও সামাজিক সহায়তাপুষ্ট হয়ে সেখানে গণহত্যা অব্যাহত রেখেছে। রোড আরও বলেন, বৃহৎ পরাশক্তিগুলোর সম্মিলিত সাড়ার অপেক্ষা না করেই যুক্তরাষ্ট্রের উচিত পাকিস্তানের সামরিক জান্তাকে সকল ধরনের সাহায্য বন্ধ করে দেয়া। ওয়াশিংটন পোস্ট খবর দিয়েছে পূর্ব পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যার কারণে সেখানে মারাত্মক দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। ইতোমধ্যে সেখানে বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে আর চলমান গৃহযুদ্ধ দুর্ভিক্ষের আশঙ্কাকে প্রকটতর করেছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT