ঢাকা, Thursday 29 July 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

অস্থির সময়ে বই উৎসবে স্বস্তির সন্ধান

প্রকাশিত : 08:35 AM, 10 April 2021 Saturday 81 বার পঠিত

বর্নমালা নিউজ ডেস্কঃ

বইছে এক অস্থির সময়। ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ। প্রতিদিনই প্রাণহানির সঙ্গে বাড়ছে সংক্রমণ। প্রতিবেশী থেকে স্বজনরা যুক্ত হচ্ছেন সেই তালিকায়। অন্যদিকে আবার মৌলবাদের আস্ফালনে সন্ত্রস্ত স্বদেশ। সব মিলিয়ে চারপাশে শুধুই দুঃসংবাদের ছড়াছড়ি। আর মন খারাপের এমন দিনে চেয়েছি একটু স্বস্তির সন্ধান। তাই তো দুপুরের মধ্যাহ্নভোজ শেষ করে ছুটে এসেছি বইয়ের উৎসবে। ঘুরে বেড়িয়েছে উন্মুক্ত প্রান্তরের বিভিন্ন বই বিতানে। ডুব দিয়েছি গল্প-উপন্যাস থেকে কবিতায় সজ্জিত বইয়ের পাতায়। তুলনামূলকভাবে লোকসমাগম কম থাকায় ছিমছাম পরিবেশে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পছন্দের বইগুলোর দেখার সুযোগ পেয়েছি। সেগুলো থেকে হাসান আজিজুল হকের ‘সুগন্ধি পার হয়ে’, মোজাফফর হোসেনের ‘মানুষের মাংসের রেস্তোরাঁ’, হরিশংকর জলদাসের ‘কুন্তীর বস্ত্রহরণ’, ‘মুজিব ইরমের ‘দেশী কবিতা’সহ নির্বাচিত কিছু বই কিনেছি। সব মিলিয়ে বইমেলায় এসে কেটে গেছে সকল বিষণ্ণতা। মনের মাঝে বিরাজ করছে এক ধরনের ভাললাগার অনুভব। কথাগুলো বলছিলেন পুরান ঢাকার ওয়ারীর বাসিন্দা শাফিন আফসান। শুক্রবার তার সঙ্গে কথা হয় মেলার এক ক্যানভাস সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।

শাফিনের মতো অনেকেই এদিন দুপুরের পর এসেছিলেন অমর একুশে বইমেলায়। শুক্রবার ছুটির দিনে বইমেলার দরজা খুলে গিয়েছিল বেলা বারোটায়। তবে চৈত্র মাসের কাঠফাটা রোদ্দুরে সেই সময় তেমনভাবে আসেননি পাঠক থেকে দর্শক। প্রকাশনা সংস্থাগুলো থরে থরে বিচিত্র বিষয়ের বই সাজিয়ে রাখলেও সেগুলো দেখা বা কেনার মতো মানুষ ছিল না। বিশাল প্রান্তরের মেলা মাঠজুড়ে বিরাজ করেছে বিরাজ করেছে মৌনতা। এক অর্থে সময়টি ছিল আলস্যে ভরপুর। সেই সুবাদে তেইশতম দিনে মেলার চঞ্চলতা বেড়েছে দুপুর তিনটার পর। মূলত এই সময় থেকেই মেলার তিন প্রবেশপথ দোয়েল চত্বর, টিএসসি ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউসংলগ্ন প্রবেশ পথ দিয়ে গুটি গুটি পায়ে এসেছে বইপ্রেমী থেকে দর্শনার্থী। বিকেল চারটার পর বেড়েছে বইকেন্দ্রিক উৎসবে শামিল হওয়া মানুষের সংখ্যা। তাদের পদচারণায় কেটে গেছে আলসে ভাবটি। বিশাল আকৃতির প্যাভিলিয়ন থেকে ছোট-বড় স্টলে ঢুঁ মেরেছেন গ্রন্থানুরাগীরা। সংগ্রহ করেছেন গদ্য-পদ্য, ভ্রমণকাহিনী, প্রবন্ধ, রাজনীতি, ইতিহাসহ বিবিধ বিষয়ের বই। সব মিলিয়ে লক মেলার শেষ শুক্রবারের সকালটা বিষণ্ণ হলেও বিকেলটা সজীব।

মেলা মাঠে কথা হয় সময়ের আলোচিত তরুণ লেখক স্বকৃত নোমানের সঙ্গে। আলাপচারিতায় বলেন, এই দুঃসময়ে অল্প হলেও মেলায় মানুষ আসছে- সেটাই বড় বিষয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য না হওয়া সত্ত্বেও বইয়ের প্রতি আগ্রহের এই প্রকাশ মূলত আমাদের সাংস্কৃতিক সৌন্দর্যেরই বহিঃপ্রকাশ।

তাম্রলিপি প্রকাশনীর প্রকাশক তারিকুল ইসলাম রনি বলেন, সাধারণত মেলার শেষ শুক্রবারে ব্যাপকভাবে বেড়ে যায় বইয়ের বিকিকিনি। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে এবার তেমনটা হওয়ার সুযোগ নেই। তারপরও কিছু মানুষ ঠিকই বই কিনতে এসেছেন- এটাই আশাবাদের কথা। আর এখন মেলায় আসা অধিকাংশ মানুষই বই সংগ্রহ করছেন। শুধু মেলাকে ঘিরে ঘুরে বেড়ানো মানুষের সংখ্যাটা এখন একেবারেই স্বল্প। কিন্তু সেটা যে এতটা খারাপ হবে তা কে ভেবেছিল। এখন সামনের ক’টা দিন পাড়ি দেয়াই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। এছাড়া বইমেলার বর্তমান অবস্থার জন্য সরকার, বাংলা একাডেমি বা প্রকাশক সমাজের কেউই দায়ী নন। মূল সমস্যা সৃষ্টি করেছে করোনা সংক্রমণ। করোনা আতঙ্কের কারণে বইমেলায় পাঠক-ক্রেতা কম আসবেন, বিক্রি কম হবে, আর্থিক ক্ষতি হতে পারে- এসব মেনেও প্রকাশকরা মেলা করতে রাজি হয়েছেন।

‘গণমাধ্যম অন্দরের ইতি-নেতি’ : গণমাধ্যমের চলমান সঙ্কটের ভেতরে-বাইরের অনালোচিত বিষয় নিয়ে সাংবাদিক নিয়ন মতিয়ুলের লেখা ‘গণমাধ্যম অন্দরের ইতি-নেতি’ বইটি এসেছে অমর একুশে বইমেলায়। দেশীয় গণমাধ্যমের সঙ্কট-সম্ভাবনার পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অনলাইন সাংবাদিকতার নানা দিকও তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে। শুক্রবার বিকেলে মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান চত্বরে প্রথমে বলাকা প্রকাশন স্টলে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন একঝাঁক তরুণ সংবাদকর্মী। পরে মেলার নির্ধারিত মঞ্চেও বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বইটিতে গণমাধ্যমের সমস্যাগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সংবাদকর্মীদের পেশা বদলের কারণে সমাজে যে মানবিক সঙ্কট তৈরি হচ্ছে সেসবও উঠে এসেছে। একইসঙ্গে দেশের সম্ভাবনাময় অনলাইন সংবাদমাধ্যমের নানামুখী সঙ্কট আর কনটেন্ট ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। সঙ্কটের পেছনে থাকা অনালোচিত কারণগুলো বিশ্লেষণের চেষ্টা রয়েছে গ্রন্থটিতে।

নতুন বই : শুক্রবার বইমেলার ২৩তম দিনে নতুন বই এসেছে ৮৮টি। এর মধ্যে গল্পগ্রন্থ ১০চি, উপন্যাস ৯টি, প্রবন্ধ ৬টি, কাব্যগ্রন্থ ৩৪টি, গবেষণা-১, ছড়া-১, শিশুসাহিত্য-২, জীবনী-৩, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ৪টি, নাটক-১, বিজ্ঞান ২, ভ্রমণ ১, ইতিহাস ২, রাজনীতি-১, বঙ্গবন্ধুবিষয়ক ৩টি, রম্য/ধাঁধা-২, ধর্মীয়-১, সায়েন্স ফিকশন ২টিসহ অন্যান্য ৩টি বই প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে চৈতন্য প্রকাশন এনেছে ডাঃ অপূর্ব চৌধুরীর চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ক বই ‘ভাইরাস ও শরীর’। মুক্তধারা এনেছে ‘সজীব সাহার ‘ছড়ায় ছড়ায় একাত্তর’। কথাপ্রকাশ এনেছে মাসরুর আরেফিনের উপন্যাস ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’। অনুপম প্রকাশনী এনেছে সৌমেন সাহার ‘পল্টুর অ্যাডেভেঞ্চার অজ্ঞাত দেশ’। আগামী প্রকাশনী এনেছে অধ্যাপক আব্দুল খালেকের ‘বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিত্ব এবং নেতৃত্ব’। সময় প্রকাশন এনেছে সুমী শারমীনের ‘জলেশ্বরী পত্রাবলী’। এশিয়া পাবলিকেশন্স এনেছে অনীশ দাস অপু অনূদিত ‘আতঙ্কের দ্বীপ’। পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স এনেছে রফিকুর রশীদের ‘বড়ো মানুষের স্কুলে যাওয়া’, হাবীবুল্লাহ সিরাজীর ‘আমাদের বঙ্গবন্ধু’। পাঠক সমাবেশ এনেছে ড. সুনীল কান্তি দের ‘বঙ্গবন্ধুর দৈনন্দিন জীবন ও তাঁর অনুসারীগণ (১ম খন্ড)’। অনিন্দ্য প্রকাশ এনেছে শামসুজ্জামান খানের ‘বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ’, বেহুলা বাংলা এনেছে সুহিতা সুলতানার ‘কোয়ারেন্টাইন’। হাওলাদার প্রকাশনী এনেছে নাজমুল হুদা পারভেজের ইতিহাসবিষয়ক বই ‘হামার চিলমারি’।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বর্ণমালা টেলিভিশন'কে জানাতে ই-মেইল করুন- bornomalatv.com@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

বর্ণমালা টেলিভিশন'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। বর্ণমালা টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT