ঢাকা, Wednesday 22 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে লাগামহীন ভোজ্যতেলের বাজার

প্রকাশিত : 09:16 AM, 16 January 2021 Saturday
68 বার পঠিত

রাছেল রানা | বগুডা

সরবরাহ বাড়ায় খুচরা পর্যায়ে কেজিপ্রতি চালের দাম কমেছে প্রায় ২-৫ টাকা পর্যন্ত। স্বর্ণা ও চায়না ইরিখ্যাত প্রতিকেজি মোটা চাল ৪৫-৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে এই দাম ৪০ টাকার মধ্যে নিয়ে আসা গেলে চালের বাজারে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে ধারাবাহিকভাবে দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোজ্যতেলের বাজার অস্থির। অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে ভোজ্যতেলের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। গত একমাসে ১০০ টাকা বেড়ে সয়াবিন তেলের পাঁচ লিটারের বোতল বিক্রি হচ্ছে ৫৮০-৬০০ টাকায়। আর এক লিটারের বোতল তেল কিনতে ভোক্তাকে ১২০-১৩০ টাকা গুণতে হচ্ছে। তবে নিত্যপণ্যের বাজাওে আরও কমেছে শাক-সবজির দাম। আলু, পেঁয়াজ, আদার দাম কমলেও

বেড়েছে চিনি ও রসুনের দাম। ডাল, ডিম ও আটার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাছ-মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে ঢাকার খুচরা বাজারে।

শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার, কাপ্তান বাজার, ফকিরাপুল বাজার, মুগদা বড় বাজার, খিলগাঁও সিটি কর্পোরেশন বাজার ও মালিবাগ রেলগেট বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দরদামের এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে লাগামহীন হয়ে পড়েছে ভোজ্যতেলের দাম। গত একমাসের বেশি সময় ধরে সব ধরনের ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে যাচ্ছে। দাম কমাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারেনি। আমদানিকারক ও মিলমালিক ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ববাজারে সয়াবিন ও পাম তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে দাম বাড়াতে হচ্ছে।

তবে তেল নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কাপ্তান বাজারের জামশেদ স্টোরের ম্যানেজার মনির হোসেন বলেন, গত ১০ দিনে সয়াবিন তেলের দাম কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকায় অবস্থান করছে, যা আগে কখনও দেখা যায়নি। পাম তেলও বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ১১৫ টাকায়। বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধির কথা বলে আমদানিকারকরা অতিরিক্ত দাম বাড়াচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। এছাড়া বাজাওে খোলা সয়াবিন তেল প্রতিকেজি ১৩০ টাকায় ও পাম তেল ১১২ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বসুন্ধরা, তীর, পুষ্টি, ফ্রেশ, রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যও। তবে সরকারী বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা

টিসিবির তথ্যমতে, সয়াবিন লুজ প্রতিলিটার ১১৩-১১৬ টাকা, পামওয়েল লুজ প্রতিলিটার ১০০-১০২ এবং পামওয়েল সুপার ১০২-১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। তেল কিনতে এসে বিরক্ত ভোক্তারা। খিলগাঁও সিটি কর্পোরেশন বাজার থেকে তেল কিনছিলেন, শাজাহান পুরের বাসিন্দা খালেক মিয়া। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, পেঁয়াজের কারসাজি বন্ধ হলে এখন তেল নিয়ে শুরু হয়েছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভোজ্যতেলের দাম। এর পেছনে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি রয়েছে।

এদিকে, আমদানির খবরে বাজারে চালের দাম কিছুটা কমে এসেছে। তবে এখনো পুরোপুরি স্বস্তি ফিরে আসেনি। ২-৫ টাকা কমে জাত ও মানভেদে প্রতিকেজি মোটা চাল ৪৫-৪৮ এবং মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা ৫০-৫৬ টাকা এবং সরু ও

নাজিরশাইল ও মিনিকেট ৫৬-৬৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। তবে আমদানির খবরে চালের দাম প্রতি বস্তায় ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে কমেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। মুগদা বড় বাজারের চালের আড়তদার ইব্রাহিম তালুকদার জনকণ্ঠকে বলেন, বাজারে এখন পর্যন্ত আমদানিকৃত চাল দেখা যায়নি। তবে সরকারী-বেসরকারীখাতে যেসব চাল আমদানি করা হচ্ছে তা শীঘ্রই বাজারে চলে আসবে। তিনি বলেন, বাজারে রশিদ মিনিকেটের বস্তা ২৯৫০ টাকায় নেমেছে, একইভাবে পাইজাম চালের বস্তা ২৪০০ টাকা হয়েছে। ডলফিন, মোজাম্মেল, জোড়া কবুতরসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের চালের দাম একই হারে কমেছে। গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে চালের বাজার অস্থির ছিল।

প্রসঙ্গত, দেশে চালের দাম বেড়ে যাওযায় আমদানি শুল্ক

৬২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করে বেশ কিছু শর্তসাপেক্ষে আমদানির সুযোগ করে দিয়েছে সরকার। বেসরকারি পর্যায়ে গত ৬ জানুয়ারি থেকে তিন ধাপে ১৮৫টি প্রতিষ্ঠানকে চার লাখ ৮৭ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি দেয়া হয়। সরকারিভাবেও ৩৪ টাকা কেজি দওে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টন চাল আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। চাল আমদানি ও বিপণন পর্যবেক্ষণ করতে একটি মনিটরিং সেলও গঠন করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া নিত্যপণ্যের বাজারে দাম কমে প্রতিকেজি দেশী পেঁয়াজ ৩০-৪০, আমদানিকৃত পেঁয়াজ ২০-৩০, আদা ১০০-১১০, আদা আমদানি ৮০-৯০, আলু ২০-২৫ ডিম প্রতিহালী ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। এর পাশাপাশি বাজারে সরবরাহ

বাড়ায় আরও কমেছে সব ধরনের সবজির দাম। ফুলকপি, বাধাকপি, লাউ, শিম, গাজর, শসা, শালগম ও মূলাসহ সব ধরনের সবজিতে এখন স্বস্তি বিরাজ করছে। বেশির ভাগ সবজি ২০-৩০ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে। তবে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা কেজিতে। দাম বেড়ে প্রতিকেজি চিনি ৬৫-৭০, রুসন ৯০-১০০, রসুন আমদানি ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। এছাড়া সরবরাহ বাড়ায় কিছুটা কমেছে দেশী মাছের দাম। বাজারে বড় সাইজের শৌল, বোয়াল ও আইর, বাঘাইর মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ব্রয়লার মুরগি, লাল মুরগি এবং দেশী মুরগি ও হাঁসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT