ঢাকা, Sunday 24 October 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য হবে ৩০ হাজার বীর নিবাস

প্রকাশিত : 08:22 AM, 17 March 2021 Wednesday
58 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য খাস জমিতে আবাসনের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দরিদ্র বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ‘বীর নিবাস’ তৈরি করতে মঙ্গলবার একনেকে ‘অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পে অনুমোদন দিয়ে এই নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের এই ‘বীর নিবাস’ উপহার দেয়া হবে। রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেকের সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

একনেক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মোঃ মামুন-আল-রশীদ বলেন, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের

জন্য আবাসন নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভিটামাটি নেই এরকম মুক্তিযোদ্ধা তেমন একটা নেই। যদি ভিটামাটিহীন কোন মুক্তিযোদ্ধা পাওয়া যায় তাহলে সংশ্লিষ্ট ডিসি বা ইউএনও ওই মুক্তিযোদ্ধার জন্য যেন সরকারী খাস জমির ব্যবস্থা করে বীর নিবাস তৈরি করে দেন। এ সময় তিনি এই প্রকল্পটির আরও কয়েকটি অনুশাসনের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘প্রকল্পটির দ্রুত বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসক ও ইউএনওরা যাতে প্রয়োজনে প্রকল্পের টাকা দ্রুত ছাড় করতে পারেন তার ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রকল্পটিতে আগামী অর্থবছর থেকে অর্থায়ন শুরু করার কথা বলা হলেও বাস্তবায়নে যাতে অর্থায়ন চাপে না পড়ে তার জন্য চলতি অর্থবছর থেকেই অর্থছাড় ও

কাজ শুরু করতে হবে, যাতে চার অর্থবছর মিলেই টাকাটা ছাড় দেয়া যায়।’ এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও অর্থ সরবরাহ বেড়ে যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটির মেয়াদ তিন মাস বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুনের পরিবর্তে অক্টোবর পর্যন্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান পরিকল্পনা কমিশনের এ সদস্য। প্রায় চার হাজার ১২৩ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটির মাধ্যমে সারা দেশের ৩০ হাজার অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাকে একতলা পাকা ঘর তৈরি করে দেয়া হবে। সারাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের ভিটায় দুই বেড, দুই টয়লেট, ডাইনিং ও কিচেনসহ ৬৩৫ বর্গফুটের এই ‘বীর নিবাস’ তৈরি করে দেয়া হবে। সংবাদ

সম্মেলনে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী জানান, একনেক বৈঠকে মোট ছয়টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোর মোট মোট ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার ৬১৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে পাঁচ হাজার ১৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৪২ কোটি এবং প্রকল্প সহায়তা খাত থেকে ৫৭ কোটি ৫২ লাখ টাকার যোগান দেয়া হবে।

এছাড়া একনেকের সভায় অনুমোদিত নতুন প্রকল্পগুলোর মধ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ’ প্রকল্পটি ৪৪৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা খরচে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন মেয়াদে

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগের ‘পিরোজপুর জেলার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্প ৬০০ কোটি টাকা খরচে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

সংশোধিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের ‘রাজশাহী কল্পনা সিনেমা হল থেকে তালাইমারী মোড় পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্পটি প্রথম সংশোধন অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পটির মূল খরচ ছিল ১৬৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা এবং আজকে সংশোধনের পর হলো ১২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আজকে প্রকল্পটির ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালের জুলাইয়ে এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে। এখন এর মেয়াদ বৃদ্ধি করে করা হলো ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘শরীয়তপুর জেলার জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলায় পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধন অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সংশোধনীতে প্রকল্পের খরচ ৩১৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রকল্পটির মূল খরচ ছিল ১ হাজার ৯৭ কোটি ২১ লাখ টাকা। এখন খরচ বৃদ্ধি করে করা হয়েছে ১ হাজার ৪১৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০২১ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। এখন মেয়াদ বৃদ্ধি করে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

বিদ্যুত বিভাগের ‘কন্সট্রাকশন অব নিউ

১৩২/৩৩ কেভি এ্যান্ড ৩৩/১ কেভি সাবস্টেশন আন্ডার ডিপিডিসি’ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন অনুমোদন দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় সংশোধনীতে প্রকল্পের খরচ ৯২ কোটি ২৫ লাখ টাকা বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পটির মূল খরচ ১ হাজার ৮৫০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধনীতে এর ব্যয় বাড়িয়ে করা হয়েছিল ২ হাজার ৩৮৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। আজকে দ্বিতীয় সংশোধনীতে করা হয়েছে ২ হাজার ৪৭৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT