ঢাকা, Friday 17 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

অর্থনীতিতে ৭ চ্যালেঞ্জ ॥ করোনার মধ্যেই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী নতুন বছরে

প্রকাশিত : 10:14 AM, 4 January 2021 Monday
73 বার পঠিত

রাছেল রানা | বগুডা

দেশের অর্থনীতির জন্য ২০২০ সাল ছিল সঙ্কট মোকাবেলায় চ্যালেঞ্জের বছর। করোনা মহামারীর মধ্যেই নতুন বছরে ৫০ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে স্বাধীন বাংলাদেশ। সুবর্ণজয়ন্তীর এ বছরেই করোনাভাইরাস মহামারী মোকাবেলাসহ আর্থ-সামাজিক নানা সঙ্কট সমাধানেরও চ্যালেঞ্জ আছে বাংলাদেশের সামনে। সবমিলিয়ে বলা হচ্ছে সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জের মিশেলে ২০২১ সাল হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের জন্য একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বছর। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নতুন বছরে অর্থনীতিতে ৭টি মৌলিক চ্যালেঞ্জ থাকছে। এগুলো হচ্ছে- রাজস্ব আদায়, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো, টাকার মান স্থিতিশীল ও লেনদেনের ভারসাম্য ধরে রাখা, খাদ্যমূল্যের উর্ধগতি নিয়ন্ত্রণ, করোনায় প্রণোদনার সুষম বণ্টন, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা এবং সবার জন্য করোনার ভ্যাকসিন নিশ্চিত করাসহ

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত পুনর্গঠন করা। আর এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারলে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার সম্ভব।

জানা গেছে, ২০২০ সালের শুরুটা ভালই ছিল। অর্থনীতির সবগুলো সূচক উর্ধমুখী ছিল। এ পরিস্থিতিতে প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২ শতাংশ অর্জন হবে এমনটি প্রত্যাশা ছিল সরকারের। কিন্তু গত বছরের মার্চ থেকে দেশে শুরু হয় করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এতে বড় ধরনের ধস নামে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পের উৎপাদনে। ধস নামে আমদানি ও রফতানি এবং রাজস্ব আহরণে। ফলে শেষ পর্যন্ত গত অর্থবছরের শেষ তিন মাস (এপ্রিল-জুন) এই বিপর্যয়ের কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি। অর্থবছর শেষে

প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। যা ২০০৮ সালের পর জিডিপিতে এত বড় আঘাত আর আসেনি। কিন্তু এবার কোভিড-১৯’র মহামারীতে অর্থনীতির বিপর্যয়ে বিশ্ব প্লাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশও।

এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনার কারণে রফতানি পণ্যের অর্ডার বাতিল হয়। এতে রফতানি আয়ে বিরূপ প্রভাব পড়ে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প উৎপাদন হ্রাসের কারণে ধস নামে রাজস্ব আহরণে। অপরদিকে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় এ বছর স্বাস্থ্য খাতসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের অস্বাভাবিক ব্যয় বেড়েছে। আয় ও ব্যয়ের এই ভারসাম্যহীনতার প্রভাব পড়েছে অর্থনীতির ওপর। এই ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার ঋণ নির্ভর হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র থেকে অনেক বেশি মাত্রায় ঋণ

নিয়েছে সরকার। এদিকে করোনায় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকার ১ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। ২১টি প্যাকেজের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত সব খাতকে ঋণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এর বড় অংশ ব্যবসায়ীদের ঋণ। বৃহৎ, মাঝারি শিল্পে ঋণ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী বাড়ানো এবং গার্মেন্ট খাতে কিছুটা নগদ দেয়া হয়েছে। তবে এ ঋণ বিতরণ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন রয়েছে। এখনও অধিকাংশ সুবিধাভোগী ঋণ পাননি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গবর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসন নতুন বছরের চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, করোনায় বিপুল সংখ্যক মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। ক্ষুদ্র, মাঝারি খাতের অনেক উদ্যোক্তার ব্যবসা

বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে তারা চলতে পারছেন না। ফলে নতুন বছরের প্রথম কাজ হবে ছোট ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন এবং চাকরিচ্যুতদের কর্মী পর্যায়ের লোকজনের কাজের ব্যবস্থা করা। দ্বিতীয়ত, ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ লাখ প্রবাসী বিদেশ থেকে ফেরত এসেছেন। এরা বিদেশে ফিরতে পারছেন না। দেশেও তাদের কাজের ব্যবস্থা নেই। এক্ষেত্রে আগামী বছরে অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার করে, তাদের কাজের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। এজন্য আমাদের ফরেন সার্ভিসকে ঢেলে সাজাতে হবে। পাশাপাশি কর্মীদেরও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বাড়াতে হবে। অন্যদিকে কেউ কেউ করোনার দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ঢেউয়ের কথা বলছেন। কিন্তু এটি হলে অর্থনীতি সামাল দেয়া যাবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশে করোনা কেন্দ্রিক

যেসব তথ্য আসছে, তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা। এর অনেক কিছুই বাংলাদেশের সঙ্গে মিল নেই। ফলে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার আলোকে গবেষণা জরুরী। কারণ যারা মারা গেছেন, তাদের অধিকাংশই ধনী লোক এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিধিনিষেধ মেনে চলেছেন। যেসব নিম্ন আয়ের মানুষ ওই নির্দেশনা মানেননি, তারা কিন্তু মারা যাননি। ফলে আমার কাছে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশে দ্বিতীয় ঢেউ আসার আশঙ্কা কম।

করোনা মহামারীতে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। মূলত আমদানি-রফতানি কার্যক্রম হ্রাস পাওয়ায় সামগ্রিকভাবে রাজস্ব আদায়ে এর প্রভাব পড়েছে। অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে (জুলাই-নবেম্বর) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ছিল ১ লাখ ১২ হাজার

৯৫৯ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৮৭ হাজার ৯২ কোটি টাকা। অর্থাৎ ঘাটতি ২৫ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে যা ২৩ শতাংশ। এর মানে বিনিয়োগের জন্য উদ্যোক্তারা টাকা নিতে চান না। এ কারণে ব্যাংকে অসল টাকার পাহাড় জমা হয়ে আছে। আমানতের হার ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এছাড়া একমাত্র রেমিটেন্স ছাড়া অর্থনীতির অন্যান্য সূচকেও ঘাটতি রয়েছে ব্যাপক। অর্থবছরে রফতানিতে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল। কিন্তু ৬ মাসে ১৭ শতাংশ ঘাটতি হয়েছে। এছাড়াও করোনার কারণে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ৪৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ৩৩ বিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৮ দশমিক ১৯ শতাংশ

থেকে কমিয়ে ৫ দশমিক ২৪ শতাংশের নামিয়ে আনা হয়েছে। জিডিপির অনুসারে বেসরকারী বিনিয়োগ ২৪ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ২৩ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) জিডিপির দশমিক ৮৭ শতাংশে কমিয়ে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দশমিক ৫৪ শতাংশ। অন্যদিকে বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে সাড়ে ৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ। আর এগুলোও অর্জন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর জনকণ্ঠকে বলেন, নতুন বছরে করোনার ভ্যাকসিনেশন চালু করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন বছরজুড়েই ভ্যাকসিন

কার্যক্রম চালাতে হতে পারে। অর্থনীতিতে যে স্থবিরতা তাতে প্রবৃদ্ধি অনেক কম হবে। রাজস্ব আয় কমতে পারে ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি। চাল ও আলুসহ কিছু ভোগ্যপণ্যের মূল্য নতুন বছরেও চড়া থাকতে পারে। রফতানি বাণিজ্য চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, নতুন বছরে চাঙ্গা করতে হবে। নতুন বছরের জুন-জুলাইয়ের আগে রফতানি আয় বাড়ার সম্ভাবনা নেই। বিনিয়োগ না হওয়ায় কর্মসংস্থান হচ্ছে না। এ জন্য বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। নতুন বছরেও সরকারকে ধার দেনা করে সংসার চালানোর মতো করে চলতে হবে।

জানা গেছে, গত কয়েক বছর পর্যন্ত দেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় সঙ্কট ছিল বেসরকারী বিনিয়োগের অভাব। সরকার বিষয়টি স্বীকার করে বিনিয়োগ বাড়াতে বাজেটে

এবং আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলেছিল। কিন্তু করোনা এসে সেই সঙ্কটকে মহাসঙ্কটে রূপ দিয়েছে। এছাড়া মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমছে। দেশে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির জন্য শিল্পায়নে বিনিয়োগও খুব বেশি বাড়েনি। বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুসারে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় জুলাই-সেপ্টেম্বরে স্থানীয় বিনিয়োগ ৬১ শতাংশ এবং বিদেশী বিনিয়োগ ৯৩ শতাংশ কমেছে। বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, করোনায় বিনিয়োগে বেশি প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে নতুন বিনিয়োগ কমেছে। পণ্য বিপণন ব্যবস্থা ঠিক না থাকায় দেশীয় বিনিয়োগও হয়নি। তিনি বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামনে আসছে। ফলে আপাতত তেমন কোন সুখবর দেখছি

না। কারণ মানুষের মুভমেন্ট (স্বাভাবিক কার্যক্রম) না থাকলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল থাকে না। তবে আমরা সংস্কারের জন্য কাজ করছি। চলতি মাসের মধ্যে ৫০টি সেবা অনলাইনে পাওয়া যাবে। এতে বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস রিপোর্টে (সহজে ব্যবসা করার সূচক) বাংলাদেশের অগ্রগতিসহ ব্যবসায়ীরা এর সুবিধা পাবেন। এছাড়াও আইনকানুনে বেশ সংস্কার আনা হয়েছে। আশা করছি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিনিয়োগে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, করোনভাইরাসের কারণে যে অর্থনৈতিক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে, সেটা কিন্তু কাটিয়ে উঠতে পারিনি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, এটা হয়ত ২০২১ সালের শেষভাগে বা ২০২২ এ গিয়ে আমরা

কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হব, যদি না করোনা পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে না যায়। ২০২১ সালে আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমাদের যেসব ক্ষেত্রে ক্ষতি হয়েছে, ব্যবসা-বাণিজ্য শিল্প কল-কারখানা যেগুলো সমস্যায় আছে, যার জন্য প্রণোদনা প্যাকেজগুলো ঘোষণা হয়েছে, সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন করা। অনানুষ্ঠানিক খাতের জন্য প্রয়োজনে নতুন প্রণোদনার ব্যবস্থা করা। করোনাভাইরাস মহামারীতে নতুন কিছু সুযোগেরও সৃষ্টি হয়েছে যা কাজে লাগানো প্রয়োজন হবে নতুন বছরে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিনিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে বছরের শুরুতেই। ড. নাজনীন বলেন, কর্মসংস্থানের যে চ্যালেঞ্জটা ২০২০ সালে এসেছে সেটা নিশ্চিতভাবেই ২০২১ সালে থাকবে। যেসব নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে সেগুলোকে

যেন আমরা কাজে লাগাতে পারি।

বিশ্ব ব্যাংকের ‘লুজিং লাইভলিহুড: দ্য লেবার মার্কেট ইমপ্যাক্টস অব কোভিড-১৯ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুসারে করোনাকালে ঢাকায় ৭৬ শতাংশ এবং চট্টগ্রামে ৫৯ শতাংশ চাকরিজীবী কাজ হারিয়েছে। বস্তিবাসীদের মধ্যে চাকরি হারিয়েছে ৭১ শতাংশ। আর অন্য এলাকায় হারিয়েছে ৬১ শতাংশ। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, নতুন বছরে কয়েক ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যেমন টিকা ছাড়া অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। মানবসম্পদ তৈরির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর খোলার কৌশল ঠিক করতে হবে। অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কারখানার জন্য যে প্রণোদনা

দেয়া হয়েছিল, তা মাঝারি শিল্প মালিকরা নিয়ে গেছেন। কারণ ছোটরা ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নেই। করোনার আগেই আর্থিক খাত সঙ্কটে ছিল। করোনার কারণে ঋণখেলাপী ঘোষণায় শর্ত শিথিল করা হয়। ফলে এখন ব্যাংক খাতের সার্বিক স্বাস্থ্য কেমন, তা বোঝা যাচ্ছে না। এই খাতে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন।

তবে অর্থনীতিতে কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে প্রবাসী আয় বা রেমিটেন্স। এই খাতে উর্ধগতি এই করোনাকালেও অটুট রয়েছে। আমদানি কম হয়েছে তাই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও ভাল অবস্থায় রয়েছে। তা এখন ৪৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। তবে এরপরও নতুন বছরে ক্ষয়ে যাওয়া অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করাই সরকারের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে বলে মনে করছেন

অর্থনীতিবিদরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গবর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, নতুন বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি তার শক্তিমত্তা দেখাবে। অনানুষ্ঠানিক খাতের সঙ্গে যুক্ত মানুষগুলোর কর্মসংস্থান উবে যায় করোনায়। তবে সরকার বিশেষ প্রণোদনা দিয়ে গার্মেন্টস কারখানা চালু রাখে। কৃষির দিকেও সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দেয়। রফতানি সচল রাখার জন্য সব ধরনের প্রণোদনা দেয়। এসএমই খাতেও প্রণোদনা দেয়। ফলে ২০২০ সালের অর্থনীতি ভালভাবেই টিকে থাকে। বিশেষ করে প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ আরও বাড়ে। এর ইতিবাচক প্রভাব গ্রামীণ অর্থনীতিতে পড়েছে। তা সত্ত্বেও অনেক মানুষের আয়-রোজগার কমেছে। অনেক শ্রমজীবী মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামে চলে গেছে। দারিদ্র্যের হার অনেকটাই বেড়েছে। তা সত্ত্বেও জিডিপির

৪.৩ শতাংশ পরিমাণ প্রণোদনা দিয়ে সরকার বাজারে অর্থের প্রবাহ অব্যাহত রেখেছে। রেমিটেন্সের কারণেও বাজারে তারল্য বেড়েছে। অন্য অনেক দেশের চেয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি বেশ গতিময়ই রয়েছে। তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি আশার দিকও রয়েছে। কারণ ভ্যাকসিন চলে আসছে। বাংলাদেশও ভ্যাকসিন পাওয়ার জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে। এটি আমাদের সাহস জোগায়। আর মানুষ স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT