ঢাকা, Sunday 19 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

অযৌক্তিক নীতিমালায় বাধাগ্রস্ত হবে সৌর বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ

প্রকাশিত : 10:09 PM, 4 January 2021 Monday
90 বার পঠিত

রাছেল রানা | বগুডা

অযৌক্তিক নীতিমালার কারণে সৌর বিদ্যুৎ সম্প্রসারণে যুক্ত সরকারের সহযোগী বড় সংস্থাগুলো এবার বৈষম্যের শিকার হতে চলেছে। এর ফলে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ এর বর্তমান ধারা বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানায়, রাষ্ট্রায়ত্ত অর্থায়নকারী সংস্থা ইডকল এবং এর সহযোগী হিসেবে বেশকিছু বেসরকারি সংস্থা দীর্ঘদিন যাবৎ দেশে সৌর বিদ্যুৎ সম্প্রসারণে যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ইডকল-এর পার্টনার অরগানাইজেশন ( (পিও) হিসাবে পরিচিত এ সব বেসরকারি সংস্থা গত ১৫ বছরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল গুলোতে প্রায় ৫৫ লক্ষ সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করেছে।

অফগ্রীড এরিয়া হিসেবে পরিচিত এসব এলাকায় বিদ্যুতের আলো পেয়ে মানুষ দারুণভাবে উপকৃত হয়। ফলে এসব এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়ন দারুণভাবে

বৃদ্ধি পায়। আর তাই ইডকল সোলার হোম সিস্টেম নামে পরিচিত এই কর্মসূচি একক বৃহত্তম কর্মসূচি হিসেবে সারা পৃথিবীতে স্বীকৃতি লাভ করে। কিন্তু ২০১৫ সালে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) অপরিকল্পিতভাবে গ্রীড লাইন সম্প্রসারণ শুরু করলে এই কর্মসূচি বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে যায়।

সূত্র জানায়, মূলত একটি ত্রিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব সমঝোতার আওতায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছিল। এক্ষেত্রে কোন গ্রাহক সোলার হোম সিস্টেম বসাতে চাইলে ইডকল ঋণ কর্মসূচির আওতায় ৭০ ভাগ খরচ বহন করত এবং বাকি ৩০ ভাগ খরচ প্রদান করত পিও এবং গ্রাহক। সোলার হোম সিস্টেম চালু হবার পর গ্রাহক মাসিক কিস্তির মাধ্যমে তার ঋণ পরিশোধ করত। পিও গুলো ইডকল

এর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে মূলত এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে। ফলে বেসরকারি পিও গুলো ঋণের কিস্তি উঠিয়ে তা ইডকলকে ফেরত দিতো। এভাবেই এ কর্মসূচির আওতায় এ পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় ৫৫ লক্ষ সোলার হোম সিস্টেম বসানো হয়েছে। এতে উপকৃত হয়েছে প্রায় ২ কোটিরও বেশি মানুষ।

সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে আরইবি এবং অন্যান্য বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা এইসব অফ-গ্রিড এলাকায় তাদের গ্রীড সম্প্রসারণ শুরু করে এবং মানুষকে বিদ্যুৎতের সংযোগ প্রদান করতে থাকে। ফলে গ্রীডের বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়ে গ্রাহকরা সোলার হোম সিস্টেম এর কিস্তি প্রদান বন্ধ করে দেয় এবং তাদের সিস্টেম খুলে ফেলে। এর ফলে বিপর্যয়ে পড়ে এই পিও

গুলো। তারা মাঠ পর্যায়ের ঋণ আদায় করতে না পেরে ইডকলের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ ফেরত দিতে ব্যর্থ হয় এবং খেলাপি হয়ে পড়ে। এভাবে মাঠ পর্যায়ে প্রায় ১৪ শত কোটি টাকা খেলাপি হয়ে পড়ে।

সূত্র জানায়, ইডকল যখন সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি শুরু করে তখন রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সিদ্ধান্ত হয় যে পরবর্তী অন্তত ১৫ বছর এসব এলাকায় আরইবি অথবা অন্য কোন সংস্থা গ্রীড বিদ্যুতের সম্প্রসারণ করবে না। কিন্তু আরইবি এ নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়ে এসব প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রীডের বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ অব্যহত রাখে। এক্ষেত্রে অবশ্য আরইবি বিষয়টির জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যদের কে দায়ী করে থাকে।

আরইবি কর্মকর্তারা বলছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যদের চাপের

মুখেই তাদেরকে এসব এলাকায় গ্রীড বিদ্যুৎ লাইন বসাতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি উচ্চ পর্যায়ে ব্যাপক আলাপ আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয় যে, যেহেতু এই ঋণ খেলাপি হওয়ার জন্য বেসরকারি পিও গুলো নিজেরা দায়ী নয়। বরং গ্রী়ড বিদ্যুতায়ন কর্মসূচি অনেকটা দায়ী, তাই তাদের ঋণ মওকুফ করে দেওয়া হবে।

কিন্তু ইডকল এ ঋণ মওকুফের জন্য সম্প্রতি একটি নীতিমালা প্রস্তুত করেছে, আর তা নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। কারন, সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ নীতিমালার ফলে ঋণ মওকুফ এর ক্ষেত্রে একটি চরম বৈষম্যের সৃষ্টি হবে।

তারা অভিযোগ করছেন, এ নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে সবচেয়ে বড় পিও গুলো যারা প্রায় ৬৫ ভাগ অবদান রেখেছেন এই

সৌর বিদ্যুতায়ন কর্মসূচিতে, তারা চরমভাবে বৈষম্যের শিকার হবেন। এমনকি তারা এই ঋণ মওকুফের কোন সুবিধা না ও পেতে পারেন। উল্টোদিকে ছোট যেসব সংস্থা সম্মিলিতভাবে ৩৫ শতাংশের কম অবদান রেখেছে তারা ব্যাপক সুবিধা পাবেন এবং তাদের প্রায় পুরো ঋণই মওকুফ হয়ে যাবে।

বিষয়টি নিয়ে ইডকলের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলা হলে সংস্থার ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মনিরুল ইসলাম এ উদ্যোগের কথা স্বীকার করেন। তবে তিনি এ ক্ষেত্রে বৈষম্য হওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে তা অস্বীকার করেন এবং বলেন বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। এটি প্রস্তাব আকারে পাঠানোর পর উচ্চপর্যায়ের এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে বড় সংস্থাগুলো

এই ঋণ মওকুফের সুবিধা না পেলেও দ্বিতীয় বা তৃতীয় পর্যায়ে তারা পাবেন।

এসম্পর্কে ইডকলের চেয়ারম্যান এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সাড়া দেননি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ে আরো আলাপ-আলোচনা হওয়া উচিত এবং এমন নীতি গ্রহণ করা উচিত যাতে কেউ বৈষম্যের শিকার না হয় এবং সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি অব্যাহত থাকে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT