”সুষ্ঠভাবে স্কুল পরিচালনায় প্রয়োজন সৎ ও যোগ্যতাসম্পন্ন ম্যানেজিং কমিটি”

১ নভেম্বর ২০১৭, ৮:১৯ পূর্বাহ্ণ  -->| নিউজটি পড়া হয়েছে : 542 বার

bornomalatv

বিদ্যালয় সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করত: বিদ্যালয়ে সকল সচেতন মহলের অংশগ্রহণে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ত্বরান্বিত করতে মুলত বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়ে থাকে ৷ সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে ম্যানেজিং কমিটি বিদ্যালয়ের অনস্বীকার্য ভূমিকা রাখতে পারে৷ বিদ্যালয়ের অর্থনৈতি কর্মকান্ড তদারকি করা, বিদ্যালয় পরিচালনায় অর্থের যোগানে পরিকল্পনা করা, অর্থের সঠিক ব্যয় নিরূপন করা, শিক্ষকদের বেসরকারি বেতন-ভাতাদি নির্ধারন করা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট প্রদানে সহায়তা করা, তথা বিদ্যালয়ের উন্নয়নে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদানে  ম্যানেজিং কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে ৷ উক্ত কর্মকান্ড পরিচালনায় কমিটি প্রতিষ্ঠান প্রধানকে পরামর্শ, সহায়তা ও বাস্তবায়নে কমিটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে থাকে ৷ কিন্তু অামাদের দেশে অধিকাংশ বেসরকারি স্কুলগুলোর ম্যানেজিং কমিটির বিরোদ্ধে অনৈতিক হস্তক্ষেপ করার নানান অভিযোগ নতুন কিছুই নয় ৷ প্রশাসনিক কাজ থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের এমন কোনো কাজ নেই যেখানে কমিটির কিছু সদস্যরা হস্তক্ষেপ করে না৷ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি, শাখা বিভাজন, ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত/অনুপস্থিত সংক্রান্ত, এমনকি পরীক্ষার ফলাফলে তাদের হস্তক্ষেপেও তাদের অাধিপত্য প্রায়ই লক্ষ্য করা যায় ৷ এসএসসি ফরম পূরনের সময় এলে দেখা যায় ম্যানেজিং কমিটির ক্ষমতা কত, কত তাদের দাপট! সরকারি প্রজ্ঞাপন/ চিঠি পত্র যেন শুধু  প্রতিষ্ঠান প্রধানের জন্যেই ! এগুলো তারা কোন তোয়াক্কা করে না বললেই চলে৷ যদি সরকারি প্রজ্ঞাপনে থাকে নির্বাচনী পরীক্ষায় এক বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও এসএসসির ফরম পূরণ করতে না দেয়ায়, সে ক্ষেত্রে কমিটির কিছু সদস্য শুধু নির্বাচনী পরীক্ষা কেন সারা বছর কোনো পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে নাই এমন ছাত্রদেরকেও ক্ষমার দাপট দেখিয়ে ফরম ফিলাপ করিয়ে স্কুলের পাসের হারের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলার অপপ্রায়াস চালাতেও দেখা যায় ৷
কিছু অশিক্ষিত ব্যক্তি ম্যানেজিং কমিটিতে এসে শিক্ষকদের সাথে যে অাচরণ করে তা শুনলে মনে হয় শিক্ষকেরা কোন রাজার বাড়িতে কাজ করে! রাজা যা বলে তাই শুনতে হবে৷ তাদের হস্তক্ষেপ শুধু স্কুলেই বিদ্যমান থাকে না শিক্ষকেরা কোন দোকানে বসে, কার সাথে চলাফেরা করে ইত্যাদি বিষয়ে হস্তেক্ষেপ করতে শোনা যায়৷
এবার বলা যাক কারা ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচিত সদস্য? গ্রামের কিছু মূর্খ যাদের তিন চার ছেলে বিদেশে থাকে, যারা হঠাৎ পয়সাওয়ালাতে পরিনত হয়েছেন,  কিংবা যারা স্থানীয় কোন রাজনৈতিক ব্যক্তি বা ব্যক্তির সাথে সুসম্পর্ক অাছে তারাই মুলত অর্থ কিংবা পেশি শক্তির দাপটে নির্বাচনের মাধ্যমে বা অন্য কোনো উপায়ে কমিটিতে স্থান দখল করে থাকে৷ গ্রামাঞ্চলে অধিকাংশ কমিটির শিক্ষাগত যোগ্যতাই অষ্টম শ্রেণির নিচে বা অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন৷ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বর্তমানে প্রায় শিক্ষকই বিএডসহ মাস্টার ডিগ্রি পাস৷ এ উচ্চ শিক্ষিত ও যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষকগণ যারা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে চাকরি নিয়ে থাকেন; তাদেরকে যদি একজন সামান্য শিক্ষিত, কখনো অশিক্ষিত লোক নাম ধরে ডাকে অাবার ,মাস্টর’ বলে সম্বোধন করে তখন মনে হয় শিক্ষকতা চাকরিটার সমাজে সর্বনিম্নে অবস্থান৷
গ্রামাঞ্চলের স্কুলগুলোতে অনেক সময় ছাত্রের টিউশন ফি ও মাসিক বেতন ফ্রি করতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের জানার দরকার হয় না৷ কমিটির সদস্য নিজেই সকল পাওনাদি মওকুফ করে চিঠি পাঠিয়ে দেন ৷ তেমনি কোনো কমিটির ছেলে পড়াশোনা না করে পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল করলেও সে সকল ছেলেদের রোল নম্বর সামনে রাখার অনৈতিক অাবদারও করতেও শোনা যায় ৷ সে অাবদার না রাখলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের উপড় নেমে অাসতে পারে কাল বৈশাখী ঝড় ৷
মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী ছাত্রদের প্রতিকি সংসদের বক্তব্য শুনে বলেছিলেন, ”মাতুব্বরি করা স্কুল ম্যানেজিং কমিটির কাজ নয়৷” প্রকৃত পক্ষে অশিক্ষিক লোকেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারে বসার স্থান পেলে সে চেয়ার তাদের কাছে অাকাশ পরিমান উচু বলে মনে হয়৷ তারাই স্কুলে এসে মাতুব্বরি করে৷ এ মাতুব্বরি বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি৷ স্বর্ণকারের কাছেই যেমন স্বর্নের  যত্ন বেশি থাকে তেমনি শিক্ষিত লোকের কাছেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠার তথা শিক্ষা প্রসারে অবদান ও যত্ন থাকে বেশি ৷ অশিক্ষিতদের দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানো হাতুরে ডাক্তার দিয়ে ক্যান্সার রোগির চিকিৎসা করারই সামিল৷ শিক্ষক সমাজের বতর্মানে প্রবল প্রত্যাশা- ‘স্কুল কমিটি গঠনের অামুল পরিবর্তন অাসুক৷’ শুধু শিক্ষকসমাজই নয় সর্বমহলেই প্রত্যাশা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চ শিক্ষিত লোকের অাভিভার্ব ঘটুক ৷ বিনা স্বার্থে টাকা খরচ করার মানুষের সংখ্যা অামাদের দেশে যৎসামান্য ৷ টাকা খরচের পেছনে প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে কোনো একটা স্বার্থকতা লুকিয়ে থাকে ৷ মসজিদে টাকা দান করলেও মানুষ তার নামটা মাইকে শোনতে পছন্দ করে ৷ অার স্কুলে হাজার হাজার টাকা খরচ করে বিদ্যালয় পরিচালনার মহৎ কর্মের পিছনে ভাউচারের দিকে লক্ষ্য থাকাও একটা স্বাভাবিক ব্যাপার বলা যায়৷ সে লক্ষ্যে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি গঠনের বর্তমান নীতিমালা পরির্বতন করে কমিটির অভিভাবক সদস্য হওয়া শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে এইচএসসি পাসের বিধান রাখা, শিক্ষানুরাগী সদস্য পার্শ্ববর্তী কোনো কলেজে কর্মরত শিক্ষক অথবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়/ কলেজের কোনো অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকে মনোনীত করার বিধান রাখা যেতে পারে ৷ জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের প্রথম শ্রেণির অফিসার/অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির অফিসার/ সাবেক অধ্যক্ষ/সাবেক কলেজ শিক্ষককে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে মনোনীত করার বিধান রাখা উচিত ৷ তাহলেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চ শিক্ষিত লোকের অাভির্ভাব ঘটবে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থা অনেকটাই পরিবর্তন হয়ে শিক্ষকের মর্যাদা বৃদ্ধিসহ শিক্ষার উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানগুলো একধাপ এগিয়ে যাবে ৷

মো. মহসিন মিয়া
শিক্ষক


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
ডোনেট স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আর্ত মানবতার সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান। ডোনেট স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম, সরকার ও রাষ্ট্ররিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোন মন্তব্য না করার জন্য বর্নমালা টেলিভিশনের পাঠক ও সুভাকাঙ্খিদের বিশেষ ভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোন ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
পাঠকের মন্তব্য
Advertisement
সম্পাদকীয়

যাহা করিবার এখনই করিতে হইবে

গ্রিনহাউস গ্যাসের জন্য ক্রমশ উত্তপ্ত হইয়া উঠিতেছে এই ধরিত্রী—ইহার স্বপক্ষে প্রকাশ পাইতেছে নিত্যনূতন তথ্য। গ্রিনহাউস গ্যাসের মধ্যে সবচাইতে বেশি উচ্চারিত নামটি হইল কার্বন ডাই-অক্সাইড। সমপ্রতি... বিস্তারিত
জনমত জরিপ

সংবিধান মোতাবেক নীতিমালা প্রণয়ন করে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি নিয়োগের দাবি জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। আপনি কি এ দাবির সঙ্গে একমত?

Loading ... Loading ...
Developed By : Donet IT