রোহিঙ্গাদের আশ্রয় : ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ শেখ হাসিনা

৮ অক্টোবর ২০১৭, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ  -->| নিউজটি পড়া হয়েছে : 255 বার

bornomalatv

[সালাম সালেহ উদদীন] রোহিঙ্গা সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের উত্তাল জনস্রোত এসে আছড়ে পড়েছে বাংলাদেশে। লাখ লাখ নিরাশ্রয় রোহিঙ্গাকে মানবিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কেবল তাই নয়, ক্ষুধার্ত রোহিঙ্গা শরণার্থীরা খাদ্যের ব্যবস্থা করে তাদের আশ্রয় দিয়ে তিনি মানবিক উচ্চতার শীর্ষে উঠে এসেছেন। রোহিঙ্গাদের পক্ষে বৈশ্বিক জনমত সৃষ্টির জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তিনি। রাখাইনে সেনা অভিযানের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘তারা তো মানুষ; আমরা তো তাদের বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিতে পারি না। আমরা প্রয়োজনে খাবার ভাগাভাগি করে খাবো’। তাই তাকে বলা হয়েছে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’। তার নাম নোবেল শান্তি কমিটির কাছে প্রস্তাব করেছেন বিশ্ববিখ্যাত অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞরা। অনেকেই বলছেন, তার নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত।

খ্যাতনামা মার্কিন সাময়িকী নিউজউইকে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা সংকটে ‘সত্যিকার বীর নারী’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনেক ধনী ও বিশাল দেশের নেতাদের পেছনে ফেলেছেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ধনী দেশ নয়, তবে আমাদের হৃদয়টা বিশাল।’ শনিবার ‘ফরগেট অং সান সু চি, দিস ইজ দ্য রিয়েল হিরোইন অব দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস’ শিরোনামে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এসব কথা বলা হয়। এটি লিখেছেন গবেষণা সংস্থা আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের রেসিডেন্ট ফেলো সদানন্দ দুমে। তিনি বলেছেন, পশ্চিমা দুনিয়ায় শেখ হাসিনার চেয়ে সু চি বেশি পরিচিত। কিন্তু তাদের মধ্যে বেশ দারুণ সাদৃশ্য রয়েছে। তারা ১৯৪০-এর দশকে জন্ম নিয়েছিলেন। সে সময় এশিয়ার অনেক দেশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীন হয়। তাদের দুজনেরই বাবা জেনারেল অং সান এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ নিজ দেশের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে খ্যাত। তাদের উভয়কেই হত্যা করেছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। আরও একটি কাকতালীয় ঘটনা হচ্ছে। শেখ হাসিনা এবং সু চি দুজনই জীবনের একটা সময় দিল্লিতে কাটিয়েছেনÑ ষাটের দশকে শিক্ষার্থী হিসেবে সু চি আর ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যকে হত্যার পর নির্বাসনে থাকার সময় শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা একটি খ্যাতনামা পরিবারে জন্ম নিলেও কখনও বাংলাদেশের এলিট বা অভিজাতদের কাতারে নাম লেখাননি। শেখ হাসিনা তার দরিদ্র ও জনবহুল দেশটিতে বিপুলসংখ্যক শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যে বিশাল দরদ দেখিয়েছেন, তা অনেক বড় ও ধনী দেশের নেতারাও দেখাতে পারেননি। মানবিক দিক বিবেচনায় মিয়ানমারের নিপীড়িত নাগরিকদের জন্য আশ্রয়, খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা বাংলাদেশ সরকার নিয়েছে। আর এর প্রধান কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।


সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক পত্রিকা ‘খালিজ টাইমস’ রোহিঙ্গা সংকটের প্রতি মানবিক আবেদনের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে তাকে প্রাচ্যের নতুন তারকা হিসেবে অভিহিত করেছে। ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত খালিজ টাইমসে প্রকাশিত কলামিস্ট অ্যালন জ্যাকবের লেখা এক নিবন্ধে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বলা হয়, প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গার জীবন রক্ষায় সীমান্ত খুলে দিয়ে শেখ হাসিনা তার যে সহমর্মিতা ও সহানুভূতি দেখিয়েছেন, সেজন্য এ সপ্তাহে তার চেয়ে বড় কোনো হিরো দেখছি না। ‘শেখ হাসিনা জানেন সহমর্মিতার নৈপুণ্য’ শিরোনামের এক কলামে জ্যাকব স্বীকার করেনÑ স্বৈরাচারী, ঘৃণিত গুরু এবং নামগোত্রহীন লোকদের নিয়ে লেখার আগেই আমাদের উচিত ছিল শেখ হাসিনাকে এ পাতায় উপস্থাপন করা। বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রীর মতো নেতারা যখন কর্ণধার হন, তখন অভিবাসন সমস্যা নিয়ে হতাশায় নিমজ্জিত বিশ্বে আশার আলো জ্বলে ওঠে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হচ্ছেন প্রাচ্যের নতুন তারকা। এই মূল্যায়ন যৌক্তিক ও যথার্থ।

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে পুলিশ ও সেনা চৌকিতে হামলা হয়। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা রাখাইন রাজ্যের ৩০টি পুলিশ ফাঁড়িতে ও একটি সেনা ছাউনিতে বিদ্রোহীদের ওই হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ জনসহ ৩২ জনের প্রাণহানি ঘটে। এরপর থেকে সেনাবাহিনী অভিযানে নামে। জ্বালিয়ে দেয় রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি। হত্যা ও ধর্ষণ করা হয় রোহিঙ্গাদের। নারী ও শিশুও এ নিষ্ঠুর নির্যাতন থেকে রেহাই পায় না। ফলে জীবন বাঁচাতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে শরণার্থী হয়ে আসে।

বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে প্রতিবেশীসুলভ মনোভাবের পরিচয় দিয়ে আসছে বার বার। কিন্তু প্রয়োজন এর স্থায়ী সমাধান। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়ন আর জাতিগত নিধন অভিযানের মুখে রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে আগ্রহী দেখিয়েছে দেশটি। তবে যতদিন পর্যন্ত মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে না নেবে, ততদিন পর্যন্ত আমরা আশ্বস্ত হতে পারি না। আমাদের সংশয় থেকেই যাবে। কারণ আলোচনা ও আশ্বাসের মধ্যেও এখনো রোহিঙ্গা নির্যাতন বিতাড়ন বন্ধ হয়নি, বন্ধ হয়নি হত্যা ধর্ষণ জ্বালাও পোড়াও-ও।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ তাদের বাড়ি-ঘর ও স্বজন হারিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। ওই সময়ের দুঃখ-কষ্ট বাঙালি জাতি আজও ভোলেনি। কাজেই রোহিঙ্গাদের দুর্দশা, বেদনা বাঙালি জাতি হৃদয় থেকে অনুভব করে বর্তমান সংকটময় মুহূর্তে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তার হাত প্রসারিত করেছে। এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ছুটে গিয়েছেন রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে।

র্থী বিষয়ে মানবিকতার চূড়ান্ত নজির স্থাপন করে আসছে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন ধরে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর ভার বহন করে আসা বাংলাদেশে এ দফায় আরও পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী হয়ে এসেছে। দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর অবর্ণনীয় দুর্দশার চিত্র ফুটে উঠেছে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। ক্ষুধার্ত রোহিঙ্গা শরণার্থীরা খাদ্যের জন্য অপেক্ষা করছে ও বসবাস করছে জীর্ণ স্থানে। এ ঘটনা যে কোনো মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষকে ব্যথিত না করে পারে না।

মনে রাখতে হবে, রোহিঙ্গারা এখন বড় অসহায়। তারা নির্যাতিত-নিষ্পেষিত। তারা এখন ঘর ছাড়া, দেশ ছাড়া। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের দুরবস্থা দেখে যে কোনো মানবিক লোকের হৃদয় ভেঙে খান খান হয়ে যাবে, অশ্রুপাত করবে এটাই স্বাভাবিক। যেমন হয়েছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই তো তিনি মানবিকতায় বিশ্বস্বীকৃতি পেয়েছেন, অবস্থান করছেন এক অনন্য উচ্চতায়। তাকে বলা হচ্ছে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’, ‘সত্যিকার বীর নারী’, ‘প্রাচ্যের নতুন তারকা’। এ কৃতিত্ব যেমন তার, তেমনি বাংলাদেশেরও।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
ডোনেট স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আর্ত মানবতার সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান। ডোনেট স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম, সরকার ও রাষ্ট্ররিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোন মন্তব্য না করার জন্য বর্নমালা টেলিভিশনের পাঠক ও সুভাকাঙ্খিদের বিশেষ ভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোন ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
পাঠকের মন্তব্য
Advertisement
সম্পাদকীয়

যাহা করিবার এখনই করিতে হইবে

গ্রিনহাউস গ্যাসের জন্য ক্রমশ উত্তপ্ত হইয়া উঠিতেছে এই ধরিত্রী—ইহার স্বপক্ষে প্রকাশ পাইতেছে নিত্যনূতন তথ্য। গ্রিনহাউস গ্যাসের মধ্যে সবচাইতে বেশি উচ্চারিত নামটি হইল কার্বন ডাই-অক্সাইড। সমপ্রতি... বিস্তারিত
জনমত জরিপ

সংবিধান মোতাবেক নীতিমালা প্রণয়ন করে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি নিয়োগের দাবি জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। আপনি কি এ দাবির সঙ্গে একমত?

Loading ... Loading ...
Developed By : Donet IT