জেএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা ‘বিজ্ঞান’ -(পর্ব – ২)

৩০ জুলাই ২০১৭, ১২:৩০ অপরাহ্ণ  -->| নিউজটি পড়া হয়েছে : 299 বার

সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ, আজ তোমাদের জন্য তোমাদের জন্য থাকছে অধ্যায় -২(জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি) এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর। প্রথমে নিজে নিজে চেষ্টা করো, পরে উত্তরের সঙ্গে মিলিয়ে নাও।


নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং তৎসংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও :

নাসরিন ও তামিমা দুই বোন। তারা উভয়েই অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। নাসরিন ২ বছর আগে বাড়িতে একটি বাগান তৈরি করেছিল। উক্ত বাগানে             সে একটি আম গাছ লাগিয়েছিল। নাসরিন লক্ষ করল ৩ বছরে আম গাছটি অনেক বড় হয়েছে। সে বিজ্ঞান বই পড়ে জানতে পারে যে, জীবের এ           বৃদ্ধি এক ধরনের কোষ বিভাজনের   কারণে হয়েছে। অপরদিকে তামিমা আরো এক প্রকার কোষ বিভাজন সম্পর্কে জানতে পারল যা প্রাণীর জনন মাতৃকোষে ঘটে থাকে।

ক. ডিপ্লয়েড কী?                                                                                                                                           ১

খ. মিয়োসিসকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।                                                                        ২

গ. নাসরিনের বাগানে লাগানো জীবের বৃদ্ধির সাথে কোন কোষ বিভাজন সম্পৃক্ত ব্যাখ্যা কর।                              ৩

ঘ. তামিমার জানা কোষ বিভাজনের মাধ্যমে বংশগতির ধারা অব্যাহত থাকে Ñ উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর। ৪

উত্তর:

ক.দুটি হ্যাপ্লয়েড কোষের মিলন ঘটলে ঐ অবস্থাকে ডিপ্লয়েড (2n) বলে।

খ. যে কোষ বিভাজনে একটি প্রকৃত কোষ বিশেষ প্রক্রিয়ায় বিভক্ত হয়ে মাতৃকোষের তুলনায় অর্ধেক সংখ্যক ক্রোমোজোম বিশিষ্ট চারটি অপত্য কোষে পরিণত হয় তাকে মিয়োসিস বলে।

মিয়োসিস বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি পরপর দুই বার বিভাজিত হলেও ক্রোমোজোম বিভাজিত হয় মাত্র  একবার। ফলে অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়। তাই মিয়োসিসকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয়।

গ. নাসরিনের লাগানো জীবের বৃদ্ধির সাথে মাইটোসিস কোষ বিভাজন সম্পৃক্ত।

উদ্ভিদের দেহকোষ মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়। এ প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি এক বার বিভাজিত হয়ে সমগুণ সম্পন্ন দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে এবং ক্রোমোজোম সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখে। এই বিভাজনটি দুটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। প্রথম পর্যায়ে নিউক্লিয়াসের এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে সাইটোপ্লাজমের বিভাজন হয়। নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে ক্যারিওকাইনেসিস এবং সাইটোপ্লাজমের বিভাজনকে সাইটোকাইনেসিস বলে। মাইটোসিস কোষ        বিভাজন একটি ধারাবাহিক পদ্ধতি তাই প্রথমে ক্যারিওকাইনেসিস পরবর্তীতে সাইটোকাইনেসিস হয়। তবে ক্যারিওকাইনেসিস ও সাইটোকাইনেসিস শুরু হওয়ার আগে কোষটির নিউক্লিয়াসকে কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ করতে হয়। কোষটির এই অবস্থাকে ইন্টারফেজ বলে।

মাইটোসিস কোষ বিভাজনের ফলে কোষের স্বাভাবিক আকার, আকৃতি ও আয়তন বজায় থাকে। এককোষী জীবে মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বংশবৃদ্ধি, অঙ্গজ প্রজনন এবং জননকোষের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে। ক্ষতস্থানে নতুন কোষ সৃষ্টির মাধ্যমে জীবদেহের ক্ষতপূরণের জন্য মাইটোসিস অপরিহার্য মাইটোসিস কোষ বিভাজনের ফলে একই ধরনের কোষের উৎপত্তি হওয়ায় জীবজগতের গুণগত বৈশিষ্ট্যের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। মাইটোসিস কোষ বিভাজন না হলে জীবের দৈহিক বৃদ্ধিতে ব্যাঘাত ঘটে। অতএব, নাসরিনের বাগানে লাগানো জীবের বৃদ্ধির সাথে মাইটোসিস  কোষ বিভাজন সম্পৃক্ত।

ঘ.তামিমার জানা কোষ বিভাজন পদ্ধতি হলো মিয়োসিস কোষ বিভাজন পদ্ধতি।

এই পদ্ধতিতে জীবের এক একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য একাধিক জিন কাজ করে আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটিমাত্র জিন বেশ কয়েকটি বৈশিষ্ট্যকে নিয়ন্ত্রণ করে। মানুষের চোখের রং, চুলের প্রকৃতি, চামড়ার রং ইত্যাদি সবই জিন কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়। ক্রোমোজোমের জিনকে এক বংশ থেকে পরবর্তী বংশে বহন করার জন্য বাহক হিসেবে কাজ করে বংশগুতর ধারা অক্ষুণœ রাখে।

মিয়োসিস কোষ বিভাজনের দ্বারা বংশগতির এ ধারা অব্যাহত থাকে। কোমোজোম বংশগতির ধারা অক্ষুন্ন রাখার জন্য কোষ বিভাজনের সময় জিনকে সরাসরি মাতা – পিতা থেকে বহন করে পরবর্তী বংশধরে নিয়ে যায়। এ কারণে ক্রোমোজোমকে বংশগতির ভৌত ভিত্তি বলে।

সুতরাং মিয়োসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে বংশগতির ধারা অব্যাহত থাকে এবং ক্রোমোজোমের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বংশানুক্রমে প্রতিটি প্রজাতির স্বকীয়তা রক্ষিত হয়।

 

মো. মাসুদ খান

প্রাক্তন সহকারী শিক্ষক (গণিত ও বিজ্ঞান)

মেট্রোপলিটন ক্রিয়েটিভ স্কুল এন্ড কলেজ, ডেমরা, ঢাকা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
ডোনেট স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আর্ত মানবতার সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান। ডোনেট স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম, সরকার ও রাষ্ট্ররিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোন মন্তব্য না করার জন্য বর্নমালা টেলিভিশনের পাঠক ও সুভাকাঙ্খিদের বিশেষ ভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোন ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
পাঠকের মন্তব্য
Advertisement
সম্পাদকীয়

যাহা করিবার এখনই করিতে হইবে

গ্রিনহাউস গ্যাসের জন্য ক্রমশ উত্তপ্ত হইয়া উঠিতেছে এই ধরিত্রী—ইহার স্বপক্ষে প্রকাশ পাইতেছে নিত্যনূতন তথ্য। গ্রিনহাউস গ্যাসের মধ্যে সবচাইতে বেশি উচ্চারিত নামটি হইল কার্বন ডাই-অক্সাইড। সমপ্রতি... বিস্তারিত
জনমত জরিপ

সংবিধান মোতাবেক নীতিমালা প্রণয়ন করে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি নিয়োগের দাবি জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। আপনি কি এ দাবির সঙ্গে একমত?

Loading ... Loading ...
Developed By : Donet IT