জাতীয়করণ আদায়ের পদ্ধতি কী হওয়া উচিৎ?

২৭ অক্টোবর ২০১৭, ৩:১৩ অপরাহ্ণ  -->| নিউজটি পড়া হয়েছে : 263 বার

bornomalatv

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দুটি ধারা একটি সরকারী যা মোট শিক্ষা ব্যবস্থার ২০% নিয়ন্ত্রণ করে , আর অপরটি বেসরকারী যা মোট শিক্ষা ব্যবস্থার ৮০% নিয়ন্ত্রণ করে। আবার বেসরকারী শিক্ষা দুই ভাগে বিভক্ত এমপিও ভূক্ত এবং নন-এমপিও ভূক্ত। নন-এমপিও ভূক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীর জীবন যাত্রার ইতিহাস লিখলে দুই-তিন খন্ডেও শেষ হবে না। অপরদিকে এমপিও ভূক্ত প্রায় ৫ লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারীদের যেভাবে আর্থিক সহযোগীতা দেয় (বেতন নয় অনুদান সহায়তা যা অনেকটা খয়রাতি সহায্য) তা কবে পাওয়া যাবে কেউ যানে না। অষ্ঠম পে-স্কেলে অন্তর্ভূক্তির কাহিনী তো সকলের জানা। অনেক টালবাহানা করে অন্তর্ভূক্তি করলেও ইনক্রিমেন্ট কেরে নিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকারী নববর্ষ ভাতা থেকে বঞ্চিত করে বেসরকারী শিক্ষকদের বানালেন অ-বাঙ্গালী। উৎসবতো পালন করতে হয় সিঁকি ভাগ। শিক্ষকরা এসব দাবী আদায়ের জন্য বিভিন্ন সময়ে কথা বললেও কতিপয় চাটুকার, সুবিধাভোগী শিক্ষক নেতাদের কারণে তা আদায় হয়নি। অপরদিকে অবসর গ্রহনকারী কলিগদের দায় মেঠানোর ভার আসে নিজেদের কাঁধে। আর তাই বেসরকারী শিক্ষকরা আজ মাঠে নেমেছে একদফা জাতীয়করণের দাবী নিয়ে। সে দাবী যে সহসা আদায় হবে তাও আশা করা যায় না কারণ বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনগুলো বিচ্ছিন্নভাবে কেউবা সত্যিকার অর্থে, কেউবা লোক দেখানো,কেউবা ২০১৮ সাল পর্যন্ত দাবী আদায়ের আল্টিমেটাম দিয়েছে।এভাবে কখনোই জাতীয়করণের অভিষ্ট্য লক্ষ্যে পৌছানো সম্ভব হবে না। তাহলে করণীয় কি হওয়া উচিৎ ?

এ ক্ষেত্রে আমি মনেকরি–


০১/ সকল শিক্ষক সংগঠনগুলোকে একই প্লাট ফর্মে আসতে হবে।

০২/ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট জাতীয়করণের জোর দাবী জানাতে হবে।

০৩/ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বল্পতম সময়ে জাতীয়করণের আশ্বাস দিলে ততোদিন পর্যন্ত অন্যান্য দাবীগুলো( ৫%ইক্রিমেন্ট,নববর্ষ ভাতা, শতভাগ উৎসব ভাতা)আদায় করে নিতে হবে।

০৪ /আশ করি জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা এবং শিক্ষানুরাগী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনার্থে জাতীয়করণের যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিহাসে স্বার্ণাক্ষরে তার নাম লেখাবেন। আর যদি তা না হয় তাহলে ক্লাস বর্জনের মতো কঠিন কর্ম-সূচি দেয়া ছাড়া আর কোন পথ থাকবে না। এক্ষেত্রে অনেকে দ্বি-মত পোষণ করতে পারেন যে, ছাত্র/ছাত্রীদের ক্ষতি করে কিংবা তাদেরকে জিম্মি করে দাবী আদায় করা হবে কেন? তাদের কাছে প্রশ্ন হলো অন্যান্য পেশাজিবীরা দাবী আদায়ে যেমন- ডাক্তাররা রোগীদেরকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে, বাস শ্রমিকরা এমনকি সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রী ও শ্রমিক নেতারা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে যদি দাবী আদায় করে নিতে পারে তাহলে আমাদের করলে দোষ কোথায় ? তাছাড়া অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার ক্ষমতা আমাদের আছে। এভাবে জাতীয়করণ আদায় করে নিতে পারলে লাভ কি শুধু শিক্ষকদের হবে ? আসলে শিক্ষকদের যতটা লাভ হবে তার চেয়ে শতগুণ বেশি লাভবান হবে ৮০% গ্রামীণ জনপদের ছাত্র/ছাত্রীদের যার উন্নত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত, লাভবান হবে দেশ , সুশিক্ষিত হবে জাতি , উন্নত হবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা। তাই পরিশেষে বলতে চাই ,জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবী আর তা আদায়ে বিষয়গুলো ভেবে দেখা দরকার।

 

লেখক,

মো: ছাদেকুল ইসলাম

সহকারী অধ্যাপক (অর্থনীতি)

ডাঙ্গীরহাট স্কুল ও কলেজ

তারাঞ্জ, রংপুর।

ফোন-০১৭১৭২০১৪১৮

e-mail- sadekulislam42@gmail.com

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
ডোনেট স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আর্ত মানবতার সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান। ডোনেট স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম, সরকার ও রাষ্ট্ররিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোন মন্তব্য না করার জন্য বর্নমালা টেলিভিশনের পাঠক ও সুভাকাঙ্খিদের বিশেষ ভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোন ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
পাঠকের মন্তব্য
Advertisement
সম্পাদকীয়

যাহা করিবার এখনই করিতে হইবে

গ্রিনহাউস গ্যাসের জন্য ক্রমশ উত্তপ্ত হইয়া উঠিতেছে এই ধরিত্রী—ইহার স্বপক্ষে প্রকাশ পাইতেছে নিত্যনূতন তথ্য। গ্রিনহাউস গ্যাসের মধ্যে সবচাইতে বেশি উচ্চারিত নামটি হইল কার্বন ডাই-অক্সাইড। সমপ্রতি... বিস্তারিত
জনমত জরিপ

সংবিধান মোতাবেক নীতিমালা প্রণয়ন করে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি নিয়োগের দাবি জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। আপনি কি এ দাবির সঙ্গে একমত?

Loading ... Loading ...
Developed By : Donet IT