গোপালগঞ্জের শ্যামা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে নানা অসংগতির অভিযোগ

১ নভেম্বর ২০১৭, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ  -->| নিউজটি পড়া হয়েছে : 269 বার

bornomalatv
ফয়সাল হাবিব সানি, গোপালগঞ্জ থেকে: গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে নিয়ম বহিভূর্তভাবে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ডায়াগনষ্টিক সেন্টার। এ সকল ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের অধিকাংশের নেই কোনো সরকারি অনুমোদন, নেই উন্নত মানের মেশিন ও মানসম্পন্ন রাসায়নিক কেমিক্যাল এবং দক্ষ টেকনিশিয়ান। ফলশ্রুতিতে, এ সকল ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের ল্যাবরেটরির ভূয়া ও মনগড়া রিপোর্টে নিয়মিত প্রতারিত হচ্ছে দিন অানে দিন খাওয়া সাধারণ জনগণ।
কাশিয়ানী উপজেলার রামদিয়া বাজারে অবস্থিত শ্যামা ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা সংক্রান্ত সেবার মান নিয়ে সাধারণ মানুষের রয়েছে নানা অভিযোগ ও অসংগতি। অদক্ষ ও অযোগ্য টেকনিশিয়ান দ্বারা ল্যাবরেটরির কার্যক্রম পরিচালনা, ভূয়া ও মনগড়া রিপোর্ট তৈরি করে রোগীদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী চিকিৎসকরা ওষুধ দেন রোগীদের। অার এ সমস্ত মিথ্যা রিপোর্টে প্রকৃত রোগের তথ্য উঠে না আসায় রোগীরা রোগ মুক্তির বদলে জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
কাশিয়ানী উপজেলার সাধুহাটি গ্রামের মোঃ মমিন মোল্যা অভিযোগ করে নতুন সময়কে বলেন, উপজেলার রামদিয়া বাজারে অবস্থিত শ্যামা ডায়াগনষ্টিক সেন্টার থেকে কিডনীর টেষ্ট করি। সেখানে টেষ্টের রিপোর্টে ১.২৭ মি.লি./ডেসি. পাওয়া যায়। আবার একই পরীক্ষা ওই বাজারের সুপ্তি-সীমান্ত মেডিকেল সার্ভিসেস থেকে করে ০.৯৮ মি.লি./ডেসি. এবং খুলনা শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল থেকে পরীক্ষা করে ০.৯ এম. জি/ডেসি. পাওয়া গেছে। চিকিৎসকের মতে যা নরমাল ০.৬-১.২ থাকার কথা।
অপরপক্ষে, উপজেলার কামারোল গ্রামের সিজান নামে এক শিশুর বাবা বলেন, শ্যামা ডায়াগনষ্টিক সেন্টার থেকে আমার বাচ্চার রিমিউটিকফিবার পরীক্ষা করি। সেখানে টেষ্টের রিপোর্টে ৪০০আই.ইউ/এম.এল পাওয়া যায়। ঠিক ৭ দিন পর আবারও একই পরীক্ষা ওই বাজারের ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এবং সুপ্তি-সীমান্ত মেডিকেল সার্ভিসেস থেকে করে ২০০ আইইউ/এমএল পাওয়া যায়। প্রায়ই এ ধরণের নানা অসঙ্গতিপূর্ণ প্যাথলজি পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে মানুষের জীবন নিয়ে মরণ খেলায় মেতে উঠেছে এসব ভূয়া ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলো।
এতে করে ভুল রিপোর্টের খেসারতস্বরূপ, গর্ভবতী মা ও শিশুরা পড়ছে নানা ঝুঁকির মধ্যে। এ ধরণের ভূল রিপোর্টের কারণে অনেক সময় মা ও সদ্যজাত শিশুর জীবন হানির মত ঘটনাও ঘটছে বলে জানতে পারা যায়।
এছাড়া গ্রামের সহজ-সরল ও অসহায় রোগীদের দূর্বলতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকাও হাতিয়ে নিচ্ছে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে কর্মরত চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোপালগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ রবিউল হাসান বলেন, আমরা সরেজমিনে গিয়ে দেখবো এবং কোনো ধরণের অনিয়ম পেলে ভ্রাম্যমাণ মোবাইল আদালতের মাধ্যমে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
ডোনেট স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আর্ত মানবতার সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান। ডোনেট স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম, সরকার ও রাষ্ট্ররিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোন মন্তব্য না করার জন্য বর্নমালা টেলিভিশনের পাঠক ও সুভাকাঙ্খিদের বিশেষ ভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোন ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
পাঠকের মন্তব্য
Advertisement
সম্পাদকীয়

যাহা করিবার এখনই করিতে হইবে

গ্রিনহাউস গ্যাসের জন্য ক্রমশ উত্তপ্ত হইয়া উঠিতেছে এই ধরিত্রী—ইহার স্বপক্ষে প্রকাশ পাইতেছে নিত্যনূতন তথ্য। গ্রিনহাউস গ্যাসের মধ্যে সবচাইতে বেশি উচ্চারিত নামটি হইল কার্বন ডাই-অক্সাইড। সমপ্রতি... বিস্তারিত
জনমত জরিপ

সংবিধান মোতাবেক নীতিমালা প্রণয়ন করে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি নিয়োগের দাবি জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। আপনি কি এ দাবির সঙ্গে একমত?

Loading ... Loading ...
Developed By : Donet IT