আসমানসমূহের রহস্য জানেন একমাত্র স্রষ্টাই

২ নভেম্বর ২০১৭, ১০:১১ পূর্বাহ্ণ  -->| নিউজটি পড়া হয়েছে : 259 বার

শেফাতুল ইসলাম পিন্জু [ বার্তা বিভাগ ]

কুলিনজুরু মা জা ফিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্। (সূরা : ইউনুস-১০১)
আপনি বলে দিন তোমরা ভেবে দেখ, কী কী বস্তু রয়েছে আসমানসমূহে ও জমিনে! ১৪০০ বছর অতীতের ঐশী বাণী নিয়ে সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা ভাবতে শুরু করেছে।
বিজ্ঞান বলে প্রথম আসমানের ও মহাকাশের সীমা-পরিসীমা নেই। আলোর গতি সেকেন্ডে ১ লাখ ৮৬ হাজার মাইল, এ আলোর গতি ও মহাকাশের সীমা এখনও নির্ধারণ করতে পারেনি, তা হলে কোরআন পাকের বর্ণিত ৭ আসমানের আসমায়ী জ্ঞান কীভাবে এ মরধামের বিজ্ঞান বা মানুষ ধারণ করবে? প্রথম আকাশেরই তো আজ পর্যন্ত শেষ সীমা নির্ণয় করা যায়নি।
হাদিস ও কোরআনের বর্ণনা মতে আসমানসমূহে আছে- ১। আলমে মালাইকা ২। আলমে আরওয়াহ ৩। আলমে ইল্লিন ৪। আলমে সিজ্জিন ৫। আলমে জন্নাত ৬। আলমে বারযাখ ৭। আলমে আরশ ৮। আলমে হাশর ৯। আলমে আরাফ ১০। আলমে আফলাখ। এ ছাড়া আল্লাহর ইলমে আরও কত অসংখ্য কোটি আলম রয়েছে সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন।
আরও জানা যায়, ১ম আসমানে হজরত আদম (আ.), ২য় আসমানে হজরত ঈশা (আ.), ৩য় আসমানে হজরত ইউসুফ (আ.), ৪র্থ আসমানে হজরত ইদ্রিস (আ.), ৫ম আসমানে হজরত হারুন (আ.), ৬ষ্ঠ আসমানে হজরত মূসা (আ.) ও ৭ম আসমানে হজরত ইবরাহিম (আ.) রয়েছেন। নিঃসন্দেহে এ মহাবিশ্বের বাইরেও মানুষ বসবাসের উপযোগী কোটি কোটি গ্রহ-নক্ষত্র রয়েছে। তারা সবাই সাত আসমানে কেন থাকেন মাবুদ মাওলাই ভালো জানেন।
আলমে আরশ : আল্লাহর আরশের পাশেই রয়েছে ‘লাওহে মাহফুজ’ যাতে লেখা রয়েছে কিয়ামত পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য সৃষ্ট সবকিছুর বিবরণ এবং এতে সংরক্ষিত রয়েছে সর্বশ্রেষ্ট কিতাব আল-কোরআন। লাওহে মাহফুজ অর্থ সংরক্ষিত ফলক।
আল্লাহর সুন্দর সৃষ্টিগুলোর মধ্যে সৌন্দর্য অন্যতম। তা শুভ্রমুক্তা খচিত সৃষ্টি, এর পাতাগুলো লাল ইয়াকুতের, তা সপ্তম আসমানে আল্লাহর আরশের পাশেই স্থাপিত।
স্রষ্টার আদেশ হয়েছে ভেবে দেখ, আর মানুষও ভাবতে শুরু করেছে আসমানে জমিনে কী কী বস্তু রয়েছে? আমরা দেখি সূর্য পূর্বদিকে ওঠে এবং পশ্চিমে ডোবে। অথচ সূর্য ওঠেও না ডোবেও না; আমরা দেখি আকাশ একটু দূরে জমিনে মিশে আছে। অথচ আকাশ কখনও জমিনে মিশে নেই। বিশ্বময় ব্যাপার ‘জোয়ার-ভাটা’। জমিনের ৭৫০ কোটি মানুষ একত্রে চেষ্টা করেও সমুদ্রের পানি ওপর দিকে জোয়ার প্রবাহ আনতে পারবে না। বিজ্ঞান বলে চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণে জোয়ার ভাটা হয় তা হলে সিলেটের হাকালুকী হাওরগুলোতে জোয়ার-ভাটা হয় না কেন? স্রষ্টার যেখানে যে আদেশ তাই হবে।
মাটির নিচে গ্যাস, জ্বালানি তেল এবং পানি কে সৃষ্টি করেছে! প্রবাদ আছে পৃথিবী পানির ওপর ভাসছে। ভেবে অবাক জমিনের নিচ থেকে প্রতিদিন কোটি কোটি গ্যালন পানি, জ্বালানি ও তেল গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে; কিন্তু তার শেষ নেই। ওয়ালাল জিবালি কাইফা নুছিবাত, তারা লক্ষ্য করে না যে কীভাবে পর্বতমালা দাঁড় করানো হয়েছে। সমগ্র পৃথিবীর মানুষ ও জিন একত্রে হয়েও হিমালয় পর্বতমালা দাঁড় করাতে পারবে না।
কানাডার উপকূলে ‘ওয়েস্টার্ন গ্রেব’ নামক এক ধরনের পাখি আছে তারা পানির ওপর চপচপ করে হাঁটে, অন্য কোনো প্রাণী পানির ওপর হাঁটতে পারে না; কিন্তু সাঁতার কাটতে পারে, কী বিচিত্র স্রষ্টার সৃষ্টি। টিকটিকি, মাকড়সা তারা হাত-পা ওপর দিকে রেখে ছাদের নিচে দিয়ে দৌড়াতে পারে। মশার চোখ নেই, কিন্তু হাত উঠাতেই দৌড়ে পালায়। মানুষ, ইঁদুর ও পিঁপড়া খাদ্য মজুদ করে। আল্লাহ খাওয়ান এই তিন জাতি বিশ্বাস করে না হয়তো। আঠারো হাজার মাখলুকাতের আর কোনো জীব খাদ্য মজুদ করে না। কাক আল্লাহর সৃষ্টি পাখি। কী বিচিত্র কাক জাতির জীবনচক্র। কাক ডাস্টবিনের উচ্ছিষ্ট খায় অথচ বেঁচে থাকে দীর্ঘ বছর রোগ-ব্যাধি ছাড়া।
সাপের ‘পা’ নেই অথচ মানুষের চেয়েও দ্রুত দৌড়ায়। আবার কানও নেই জিহ্বা দিয়ে শোনে।
পৃথিবীতে অনেক রহস্যময় স্থান আছে যার রহস্য আজও বিজ্ঞানীরা উদঘাটন করতে পারেনি। কুখ্যাত বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে ও রহস্যময় দ্বীপ বাল্ট্রা। বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের সীমানায় কোনো জাহাজ বা উড়োজাহাজ পৌঁছলেই কোনো কারণ ছাড়াই গায়েব হয়ে যায়। এমনকি বিপদ সংকেতও পাঠাতে পারে না। প্রশান্ত মহাসাগরে ইকুয়েডরের গ্যালাপ্যগোস দ্বীপপঞ্জের একটা দ্বীপ ‘বাল্ট্রা’ এ দ্বীপে কোনো জীবজন্তু বা কীটপতঙ্গ কখনও জন্মায় না। আরও অবাক কাণ্ড পানি ঢাললে ওপর দিকে গড়ায় অথচ পানির ধর্ম নিচের দিকে গড়িয়ে নামা। আগুন জ্বালালে শঙ্খাকারে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে ওপর দিকে ওঠে। জর্ডানের পাশে ডেড সি মৃত সাগর। এ সাগর পানিতে কোনো কিছুই ডোবে না, সব কিছু ভেসে থাকে। এ সাগরে কোনো প্রকার কীট বা মাছ জন্মায় না।
আসমানে কী কী বস্তু আছে? প্রথম আকাশের বিষয়ই বিজ্ঞানীরা ভেবে পায় না। প্রখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডুইন হাবলের শক্তিশালী ‘হাবলটেলিস্কোপের’ মাধ্যমে শুধু প্রথম আকাশে (আসমান নয়) যতটুকু দেখেছে ও প্রতীয়মান হয়েছে তাতে মনে হয়েছে প্রতিটি বিশ্ব ৫০ হাজার কোটি গ্যালাক্সি বা ছায়াপথ নিয়ে গঠিত। প্রতিটি গ্যালাক্সি আবার শতকোটি সৌরজগৎ নিয়ে গঠিত। প্রতিটি সৌরজগতে রয়েছে সৃষ্ট জীব বসবাসের উপযোগী লাখ লাখ গ্রহ-নক্ষত্র। আরও প্রত্যক্ষ করেছে আমাদের এই পৃথিবী যে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত শুধু তারই মধ্যে ১০ কোটি এমন গ্রহ রয়েছে যা মানুষ বসবাসের উপযোগী। সুতরাং কোরআনে বর্ণিত সাব’আ সামাওয়াতিন ওয়াল আরদ, তথা ৭টি বিশ্বে পৃথিবীর মতো মানুষ, জিন বা জীব বসবাসের উপযোগী।
হাবলটেলিস্কোপে বিজ্ঞানীরা আরও প্রত্যক্ষ করেছেন ১। নোয়াসার ২। পলসার বা নিটস্ট্রোন ৩। হোয়াইডরপ ৪। বেচডরপ ৫। নোভা সুপার নোভা ৬। নেবুলা ৭। ধূমকেতু দেখেছেন। এখনও নতুন নতুন গ্রহ-নক্ষত্র সৃষ্টি হচ্ছে! সব কিছুই আল্লাহর কুদরত!! সাধে কী আল্লাহর অলিরা সংসার ত্যাগী ফকির হয়েছেন। ‘ফাতাবারাকাল্লাহু আহসানুল খালিকিন, (কোরান) এমন অপূর্ব সৃষ্টি করায় শ্রেষ্ঠতম স্রষ্টা আল্লাহকে মোবারকবাদ। সুবহানাকা ফাকিনা আজাবান্ নার : (সূরা আল ইমরান আয়াত-১৯১) আমরা আপনাকে পবিত্র মনে করি, সুতরাং হে আল্লাহ আমাদের জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
ডোনেট স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আর্ত মানবতার সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান। ডোনেট স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম, সরকার ও রাষ্ট্ররিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোন মন্তব্য না করার জন্য বর্নমালা টেলিভিশনের পাঠক ও সুভাকাঙ্খিদের বিশেষ ভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোন ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
পাঠকের মন্তব্য
Advertisement
সম্পাদকীয়

যাহা করিবার এখনই করিতে হইবে

গ্রিনহাউস গ্যাসের জন্য ক্রমশ উত্তপ্ত হইয়া উঠিতেছে এই ধরিত্রী—ইহার স্বপক্ষে প্রকাশ পাইতেছে নিত্যনূতন তথ্য। গ্রিনহাউস গ্যাসের মধ্যে সবচাইতে বেশি উচ্চারিত নামটি হইল কার্বন ডাই-অক্সাইড। সমপ্রতি... বিস্তারিত
জনমত জরিপ

সংবিধান মোতাবেক নীতিমালা প্রণয়ন করে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি নিয়োগের দাবি জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। আপনি কি এ দাবির সঙ্গে একমত?

Loading ... Loading ...
Developed By : Donet IT